AB Live News
কুর্সি-ত্যাগে নারাজ মমতা, বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন
গণতান্ত্রিক কাঠামোর সমস্ত রীতি ও শিষ্টাচারকে নস্যাৎ করে দিয়ে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকটের সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর প্রত্যাশিতভাবেই পদত্যাগ করতে অস্বীকার করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘আমরা হারিনি, আমাদের হারানো হয়েছে’—এই জিগির তুলে ভবানীপুরের পরাজিত প্রার্থী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা দিতে রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। ৭ মে মধ্যরাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃতীয় তৃণমূল সরকারের মেয়াদের শেষ ঘণ্টা বাজার সাথে সাথেই বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশিকা জারি করেন রাজ্যপাল। এর ফলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আর মুখ্যমন্ত্রী পদে রইলেন না মমতা। নবনির্বাচিত সরকার শপথ গ্রহণ না করা পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য বাংলায় জারি হল রাষ্ট্রপতি শাসন।
ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই উত্তপ্ত ছিল পরিস্থিতি। নিজের খাসতালুক ভবানীপুর কেন্দ্রে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে বিজেপির কাছে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গণনাকেন্দ্র থেকেই তিনি রিগিং এবং কারচুপির অভিযোগ তুলে সরব হন। পরাজয় মেনে নেওয়া তো দূরস্ত, বরং উল্টে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে ভোট লুটের অভিযোগ এনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি হুঙ্কার দেন যে তিনি কোনোভাবেই রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন না। মমতার দাবি, বিজেপি লড়াই করে জেতেনি, তারা কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাপট আর এজেন্টদের মেরে বের করে দিয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। এই দিনটিকে ‘বাংলার ইতিহাসের কালো দিন’ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি জানান, প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি শাসন হবে, কিন্তু তিনি পরাজয় স্বীকার করবেন না। তাঁর এই অনড় মনোভাবের কারণে রাজ্যে এক জটিল প্রশাসনিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পরাজয়ের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর রাজভবনে গিয়ে ইস্তফা দেওয়া এবং নতুন সরকার শপথ না নেওয়া পর্যন্ত কেয়ারটেকার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব সামলানোই দস্তুর। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই প্রথা ভাঙায় তৈরি হয় শূন্যতা। যেহেতু ৭ মে পর্যন্ত বর্তমান সরকারের বিধিবদ্ধ মেয়াদ ছিল, তাই সেই সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়া মাত্রই রাজ্যপাল সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। রাজভবনের এই নির্দেশিকা মেনে মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালও পাল্টা বিজ্ঞপ্তি জারি করে বিধানসভা ভঙ্গের কথা সরকারিভাবে ঘোষণা করেন। ফলে সরকারি নথিতে আর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রইলেন না মমতা।
এদিকে গেরুয়া শিবিরের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। আগামী ৯ মে নতুন সরকার শপথ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে বিজেপি। মাঝখানের এই ৪৮ ঘণ্টা প্রশাসনিক শূন্যস্থান পূরণ করতে রাষ্ট্রপতি শাসনের মাধ্যমেই যাবতীয় কাজ পরিচালিত হবে। রাজ্যপালের এই কড়া পদক্ষেপের পর তৃণমূল শিবিরে শোকের ছায়া থাকলেও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এখনও নিজের অবস্থানে অনড়। তিনি মনে করছেন, মানুষের রায় নয় বরং কারচুপির মাধ্যমেই তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। তবে আইন ও সংবিধানের মারপ্যাঁচে তাঁর ইস্তফা না দেওয়া কোনো বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে কুর্সি না ছাড়লেও নিয়ম অনুযায়ী তাঁর পদের সমস্ত কার্যকারিতা বর্তমানে বিলুপ্ত। বাংলার শাসনভার এখন পরোক্ষভাবে রাজভবনের হাতে, যা আগামিকাল শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন নির্বাচিত নেতৃত্বের কাছে হস্তান্তর করা হবে। রাজ্য রাজনীতির এই নাটকীয় মোড় আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

