Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

তদন্তে অমিত শাহের বিশেষ টিম: তাসের ঘরের মতো ভাঙল তৃণমূলের গুন্ডারাজ

0 67,439,866

 বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের গোয়েন্দা দপ্তর যখন নবান্নের অলিন্দে বসে বিরোধী শিবিরের গতিবিধি মাপতে ব্যস্ত ছিল, ঠিক তখনই তাঁদের চোখের সামনে দিয়ে নিঃশব্দে এক অবিশ্বাস্য অপারেশন চালিয়ে গিয়েছে দিল্লির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। দীর্ঘ ছয় মাস ধরে বাংলার ২৯৪টি বিধানসভার ধুলোবালি মাখা পথে ঘুরে বেড়িয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দপ্তরের এক অত্যন্ত শক্তিশালী ‘স্পেশাল টিম’ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করে খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর টেবিলে জমা পড়েছে তৃণমূলী দুষ্কৃতী ও তাঁদের ত্রাসের রাজত্বের এক আস্ত এনসাইক্লোপিডিয়া। আশ্চর্যের বিষয় হলো, রাজ্যের দাপুটে পুলিশ অফিসার বা লালবাজারের দুঁদে গোয়েন্দারা কাকপক্ষীটির মতোও টেরও পাননি যে কীভাবে তাঁদের দুর্গের নিচে সুরঙ্গ খুঁড়েছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। এই নিখুঁত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার রিপোর্টই ছিল ২০২৬-এর নির্বাচনে বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের আসল ব্লু-প্রিন্ট।

দিল্লির শীর্ষস্তরের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, এই মিশনের খবর যেন কোনোভাবেই জানাজানি না হয়। তৃণমূলের ক্যাডাররা বা অনুগত পুলিশ অফিসাররা যদি একবার এই তদন্তের ঘ্রাণ পেতেন, তবে গ্রাউন্ড রিপোর্ট সংগ্রহ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াত। তাই গোয়েন্দা কর্তারা পরিচয় গোপন করে কখনও পর্যটক, কখনও ফেরিওয়ালা, আবার কখনও সাধারণ কর্মপ্রার্থী হিসেবে মিশে গিয়েছেন গ্রামের মানুষের সঙ্গে। জেলা থেকে ব্লকের অলিগলি ছিল তাঁদের নখদর্পণে। গত দেড় দশকে তৃণমূলের ছত্রছায়ায় থাকা যে সব ‘দাদা’ বা ‘মস্তান’ সাধারণ মানুষের টুঁটি চেপে ধরেছিল, তাঁদের প্রত্যেকের অপরাধের ইতিহাস এখন দিল্লির ডিজিটাল ডায়েরিতে বন্দি। কার কাছে কটা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র আছে, ভোট লুটের সময় কার কী ভূমিকা থাকে, এমনকি গ্রামবাসীদের ভয় দেখাতে কারা রাস্তার মোড়ে বাইক বাহিনী নিয়ে পাহারা দেয়—সবই উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের রিপোর্টে। তৃণমূলের যে ‘থ্রেট কালচার’ বাংলার নাগরিক জীবনকে বিষিয়ে তুলেছিল, সেই কুখ্যাত নেতাদের ছবিসহ জীবনপঞ্জি তৈরি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নির্বাচন কমিশনকে চাপে ফেলেছিল।

ফলাফল আজ বাংলার মানুষের সামনে স্পষ্ট। এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই অপরাধীদের এমন এক চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয় যে, ভোটের দিন তাঁদের বেশিরভাগই হয় শ্রীঘরে ছিলেন নতুবা এলাকা ছাড়া। পুলিশ মহলের একাংশ স্বীকার করে নিচ্ছে, বিজেপির এই বিপুল জয় কোনো মিরাকল নয়, বরং এটি ছিল এক কঠোর বৈজ্ঞানিক ও প্রশাসনিক রণকৌশল। এতদিন যে সব গুন্ডারা তৃণমূলের আশ্রয়ে থেকে ধরাকে সরা জ্ঞান করত, তাঁদের ভবিষ্যৎ এখন বিশ বাঁও জলে। দিল্লির কাছে থাকা ওই দুষ্কৃতী-তালিকার ভিত্তিতে এখন বড়সড় ধরপাকড়ের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নব্য সরকার গঠনের পর এই অপরাধী সিন্ডিকেটের শেকড় উপড়ে ফেলা যে গেরুয়া শিবিরের প্রধান লক্ষ্য হতে চলেছে, তা এখন স্পষ্ট। নবান্নের অনেক পুলিশকর্তাই এখন নিজেদের পিঠ বাঁচাতে ব্যস্ত, কারণ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের এই ‘সাইলেন্ট অপারেশন’ প্রমাণ করে দিয়েছে যে প্রশাসনের ভেতরে থেকেও তাঁরা ঘুণাক্ষরেও কিছু জানতে পারেননি। বাংলার কোণে কোণে ছড়িয়ে থাকা তৃণমূলের তথাকথিত ‘অপরাজেয়’ দুর্গের প্রতিটি ইট যে কেন্দ্রীয় নজরদারিতে ছিল, তার ফলশ্রুতিই হলো এই শান্তিতে মেটা ভোট ও ঐতিহাসিক ক্ষমতা হস্তান্তর। এখন দেখার, ওই লাল তালিকায় থাকা দাপুটে নেতারা নতুন সরকারের জমানায় আইনের হাত থেকে কোন দিকে পালানোর পথ খোঁজে।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper