AB Live News
ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে রণক্ষেত্র, স্ট্রংরুম পাহারা ঘিরে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ, আহত বেশ কয়েকজন

ভোট মিটলেও উত্তাপ কমছে না কলকাতায়। স্ট্রংরুম পাহারা দেওয়া এবং সেখানে বহিরাগতদের প্রবেশ ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র চত্বর। সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই উত্তেজনা মঙ্গলবার চরম আকার ধারণ করে। দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, ইটবৃষ্টি এবং ধস্তাধস্তিতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে খবর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়।
সূত্র মারফত জানা গেছে, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে রাখা ইভিএম এবং স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ তুলে সেখানে অবস্থানে বসেন তৃণমূলের শশী পাঁজা এবং কুণাল ঘোষের মতো হেভিওয়েট নেতারা। তাঁদের দাবি ছিল, স্ট্রংরুমের ভেতরে নিয়মবহির্ভূতভাবে কিছু লোক প্রবেশ করছে। অন্যদিকে, খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছান বিজেপি প্রার্থী তাপস রায় এবং সন্তোষ পাঠক। বিজেপির পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয় যে, তৃণমূল অহেতুক উত্তেজনা তৈরি করে গণনার আগে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে।
উভয় পক্ষের নেতৃত্ব ও কর্মী-সমর্থকরা যখন মুখোমুখি হন, তখন স্লোগান-পাল্টা স্লোগান ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, বাগবিতণ্ডা চলাকালীন আচমকাই দু’পক্ষ একে অপরের ওপর চড়াও হয়। শুরু হয় ব্যাপক ধস্তাধস্তি ও ইটবৃষ্টি। বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁদের ওপর হামলা করেছে। পাল্টা তৃণমূলের দাবি, বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে আসা বহিরাগতরা পরিস্থিতি অশান্ত করার জন্য উস্কানি দিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দু’পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ মৃদু লাঠিচার্জ করে। এলাকার যান চলাচল কিছুক্ষণের জন্য থমকে যায়। পরে পুলিশি তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও ওই এলাকায় চাপা উত্তেজনা বজায় রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শান্তি বজায় রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং কোনো প্রকার জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, “আমরা স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বিজেপি পরিকল্পিতভাবে অশান্তি পাকানোর জন্য তাদের ক্যাডারদের নিয়ে এখানে এসেছে।” অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী তাপস রায় পাল্টাচাল দিয়ে বলেন, “তৃণমূল পরাজয়ের ভয়ে এখন থেকেই নাটক শুরু করেছে। তারা সাধারণ ভোটার এবং কর্মীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে।”
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা অত্যন্ত কঠোর এবং সিসিটিভি নজরদারিতে রয়েছে। কোনো পক্ষকেই নিয়ম ভাঙতে দেওয়া হবে না। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে লালবাজার সূত্রে জানা গেছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

