AB Live News
গোয়েন্দা জালে শহরের সাত ‘ত্রাস’
আসন্ন নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই তিলোত্তমার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করা লালবাজারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোট উৎসবে যাতে কোনওভাবেই অশান্তির ছায়া না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নামল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। শনিবার রাতভর শহরের বিভিন্ন প্রান্তে চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে গুন্ডাদমন শাখার আধিকারিকরা গ্রেপ্তার করলেন সাত কুখ্যাত ‘ট্রাবল মঙ্গার’ বা গোলমাল পাকানোয় সিদ্ধহস্ত দাগি অপরাধীকে। ধৃতদের তালিকায় রয়েছে উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতার ত্রাস হিসেবে পরিচিত খরগোশ, উচ্ছে, মিস্টারের মতো কুখ্যাত দুষ্কৃতীরা। গোয়েন্দাদের দাবি, ভোটের মুখে এদের আড়ালে থাকা মানেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাওয়া। তাই আগেভাগেই এদের জালবন্দি করে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ।
লালবাজার সূত্রে খবর, বিগত নির্বাচনগুলোতে বুথ দখল, বোমাবাজি এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর মতো একাধিক অভিযোগ ছিল এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই আদালতের পক্ষ থেকে জামিন অযোগ্য পরোয়ানা জারি করা থাকলেও তারা এতদিন পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে গা ঢাকা দিয়ে ছিল। গোপন সূত্রে খবর আসে, ভোটের আগে পুনরায় এলাকায় নিজেদের আধিপত্য কায়েম করতে এবং রাজনৈতিক মদতে গোলমাল পাকানোর ছক কষছিল এরা। সেই খবরের ভিত্তিতেই গুন্ডাদমন শাখার বিশেষ দল রাতভর অভিযান চালিয়ে শহরের সাতটি ভিন্ন এলাকা থেকে এদের তুলে নিয়ে আসে।
ধৃতদের মধ্যে সবথেকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে কার্তিক সোনকার ওরফে ‘খরগোশ’-এর গ্রেপ্তারিতে। উত্তর কলকাতার জোড়াবাগান থেকে শুরু করে বড়বাজার— একসময় এই বিশাল এলাকার বেতাজ বাদশা ছিল সে। অস্ত্র পাচার থেকে শুরু করে তোলাবাজি, হেন কোনও অপরাধ নেই যাতে তার নাম জড়ায়নি। দীর্ঘ সময় জেল খেটে আসার পরও তার অপরাধমূলক কাজকর্মে দাড়ি পড়েনি। পুলিশের তাড়া খেয়ে হাওড়ায় ডেরা বদল করলেও উত্তর কলকাতায় তার নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল। গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, খরগোশের সঙ্গী অমিত সিং ওরফে ‘চ্যাপ্টা’-কেও জালে আনা সম্ভব হয়েছে। গত লোকসভা ভোটের আগেও অস্ত্রসহ ধরা পড়েছিল চ্যাপ্টা। জেল থেকে বেরিয়েই ফের গোষ্ঠী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে সে। এমনকি প্রকাশ্যে খরগোশের ওপর চপার নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগও ছিল তার বিরুদ্ধেই। এই দুই ‘যমজ ত্রাস’ ধরা পড়ায় উত্তর কলকাতার ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।
অন্যদিকে দক্ষিণ কলকাতার ত্রাস হিসেবে পরিচিত উত্তম সাউ ওরফে ‘উচ্ছে’ ধরা পড়েছে গোয়েন্দা পুলিশের জালে। কসবার বোসপুকুর এলাকার বাসিন্দা উচ্ছে একসময় কুখ্যাত সোনা পাপ্পু গ্যাংয়ের অন্যতম পান্ডা ছিল। তোলাবাজি, সিন্ডিকেট বিবাদ এবং খুনের চেষ্টার একাধিক মামলা ঝুলছে তার নামে। স্থানীয়দের দাবি, ভোটের সময় বুথ সামলানোর নাম করে এলাকায় সন্ত্রাসের বাতাবরণ তৈরি করাই ছিল উচ্ছের কাজ। ঠিক একইভাবে মধ্য কলকাতার জোড়াসাঁকো ও বড়বাজার এলাকায় ত্রাস ছড়ানো ইস্তিয়াক আহমেদ ওরফে ‘মিস্টার’কেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মদনমোহন বর্মন স্ট্রিটের বাসিন্দা মিস্টারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ছুরি চালানো এবং ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের ভুরিভুরি অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ নিশ্চিত ছিল, ভোটের দিন গোলমাল পাকাতে মিস্টার বড় কোনও নাশকতার ছক কষছিল।
তিলজলা ও তপসিয়া অঞ্চলেও বড়সড় সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। গোয়েন্দাদের জালে ধরা পড়েছে শেখ মানোয়ার ওরফে ‘মান্নু’ এবং তার সঙ্গী মহম্মদ সিরাজ। মান্নুর বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। বিদেশি নাগরিককে অপহরণ থেকে শুরু করে মুক্তিপণ আদায় এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী সংঘর্ষের মূল কারিগর ছিল এই মান্নু। তপসিয়া রোড এলাকায় তার দাপটে ত্রস্ত থাকতেন সাধারণ মানুষ। এদের পাশাপাশি বড়বাজারের স্বঘোষিত ‘ডন’ কৃষ্ণ খারোয়ারকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোয়েন্দা প্রধান জানিয়েছেন, ধৃত এই সাতজনই নিজ নিজ এলাকায় ‘ট্রাবল মঙ্গার’ বা অশান্তির প্রধান উৎস। নির্বাচনের আগে এদের গ্রেপ্তার করা মানে শান্তিতে ভোট করানোর পথে এক বড় পদক্ষেপ। আদালতের নির্দেশে এদের সকলকেই পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হচ্ছে। লালবাজারের স্পষ্ট বার্তা, ভোটের মুখে কোনও ‘দাগি’ অপরাধীকেই রেয়াত করা হবে না এবং শহরের শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলেই কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

