AB Live News
ভয়মুক্ত নির্বাচনের লক্ষ্যে বাগদায় জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার
সীমান্ত সংলগ্ন জনপদ বাগদায় আসন্ন নির্বাচনকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে কোমর বেঁধে ময়দানে নামল প্রশাসন। সাধারণ ভোটারদের মন থেকে আশঙ্কার মেঘ সরিয়ে ভোট উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে রবিবার বাগদা বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন স্পর্শকাতর বুথ এলাকা পরিদর্শন করলেন উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পা গৌরিসরিয়া এবং বনগাঁ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্ত। দুই শীর্ষ আধিকারিকের এই অতর্কিত সফর ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথন আদতে নিচুতলার ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতেই করা হয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এদিন তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বনগাঁ পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শান্তনু চৌধুরী এবং বাগদা থানার ওসি রাখোহরি ঘোষসহ বিশাল পুলিশবাহিনী।
রবিবার দুপুরের কড়া রোদ উপেক্ষা করেই জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের কনভয় পৌঁছায় বাগদার হেলেঞ্চা এলাকায়। সেখানে গাড়ি থেকে নেমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন তাঁরা। প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরের দুই আধিকারিককে নিজেদের এলাকায় এভাবে কাছে পেয়ে আপ্লুত হন স্থানীয় বাসিন্দারা। মূলত এলাকায় কোনও রাজনৈতিক চাপ বা ভয়ের পরিবেশ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে গ্রামবাসীদের কাছ থেকে সরাসরি জানতে চান শিল্পা গৌরিসরিয়া। এরপর তাঁরা চলে যান সলুয়ারদাড়ি এলাকার অন্যতম স্পর্শকাতর বুথ পরিদর্শনে। দীর্ঘকাল ধরে এই এলাকাটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত। সেখানে গিয়ে বুথের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের আশ্বস্ত করেন পুলিশ সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্ত।
সলুয়ারদাড়ি এলাকায় পরিদর্শন চলাকালীন এক মানবিক দৃশ্য ধরা পড়ে। সেখানে বছর আশির এক বৃদ্ধা সন্ধ্যা কীর্তনিয়ার সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার। ওই বৃদ্ধার হাত ধরে জেলাশাসক জানতে চান, তিনি নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন কি না বা তাঁকে কেউ বাধা দিচ্ছে কি না। প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্ত্রীকে কাছে পেয়ে বৃদ্ধা সন্ধ্যাদেবী জানান, তাঁদের এলাকায় বর্তমানে তেমন কোনও বড় গোলমাল নেই। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সন্ধ্যা কীর্তনিয়া বলেন, “বড় দিদিমণিরা (জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার) আমার কাছে জানতে চেয়েছিলেন এলাকায় কোনও ঝামেলা হয় কি না। আমি বলেছি, আমাদের এখানে এখন কোনও অশান্তি নেই। ওনারা আমাকে নির্ভয়ে ভোট দিতে যেতে বলেছেন।”
প্রশাসনের এই তৎপরতা কেবল বুথ পরিদর্শনেই সীমাবদ্ধ ছিল না। রুট মার্চ ও এরিয়া ডমিনেশনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তা বোধ জাগিয়ে তোলাই ছিল এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। জেলাশাসক শিল্পা গৌরিসরিয়া সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনে আমরা জেলার বিভিন্ন স্পর্শকাতর বুথগুলি পরিদর্শন করছি। মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের সমস্যার কথা জানার চেষ্টা করছি। মূলত ভোটারদের আশ্বস্ত করাই আমাদের লক্ষ্য যাতে তাঁরা কোনও প্ররোচনা বা ভয়ে পা না দিয়ে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।” তিনি আরও জানান, এখনও পর্যন্ত সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বড় কোনও অভিযোগ পাননি তাঁরা, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশি টহলদারি ও নজরদারি বজায় থাকবে।
পুলিশ সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্ত জানান, স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সিসিটিভি এবং ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ার কারণে অনুপ্রবেশ বা বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য রুখতে বাগদা থানার পুলিশকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিনের এই হাই-প্রোফাইল সফরের পর সলুয়ারদাড়ি ও হেলেঞ্চার মতো এলাকাগুলোতে জনমানসে স্বস্তি ফিরেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের দিন যত এগিয়ে আসবে, প্রশাসনের এই ধরনের সক্রিয়তা ভোটারদের ভোটমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আগামী দিনেও মহকুমা ও ব্লক স্তরে প্রশাসনের এই অভিযান জারি থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

