AB Live News
আদালতে ধাক্কা জয় কামদারের, হেফাজতে ইডি
সোনা পাপ্পু কাণ্ডে ধৃত বেহালার প্রভাবশালী ব্যবসায়ী জয় কামদারের জামিনের আর্জি খারিজ করে দিল ব্যাঙ্কশাল আদালত। সোমবার দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শেষে বিচারক তাঁকে আগামী আট দিনের জন্য এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-র হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে আরজি কর হাসপাতাল থেকে শারীরিক সুস্থতার শংসাপত্র পাওয়ার পরই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা জয়কে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করেন। ব্যবসায়ী, কুখ্যাত দুষ্কৃতী এবং প্রভাবশালী পুলিশ আধিকারিকের মধ্যে যে ‘অশুভ আঁতাঁত’ এবং বিপুল আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে, জয়কে নিজেদের হেফাজতে পাওয়ায় এখন সেই রহস্যের জট খোলার কাজ শুরু করতে পারবে ইডি।
আদালতে ইডি-র আইনজীবীরা জয় কামদারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন। তদন্তকারীদের দাবি, জয়ের সঙ্গে কলকাতা পুলিশের পদস্থ আধিকারিক ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। ইডি আদালতকে স্পষ্ট জানিয়েছে, জয়ের মালিকানাধীন একটি ভুয়ো সংস্থা থেকে ওই পুলিশ আধিকারিকের দুই ছেলের নামে দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেনার জন্য বড় অঙ্কের টাকা মেটানো হয়েছিল। এই লেনদেনটি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং সরাসরি দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত বলে ইডি-র তরফে অভিযোগ করা হয়েছে। কোনো সাধারণ ব্যবসায়িক কারণে নয়, বরং প্রভাব খাটিয়ে আর্থিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়েই যে এই কয়েক কোটি টাকার লেনদেন, তা প্রমাণের জন্য তদন্তকারীরা এখন জয়ের অফিস থেকে উদ্ধার হওয়া নথিপত্র ব্যবহার করছেন। তদন্তকারী সংস্থার মতে, পুলিশ কর্তার পরিবারের সঙ্গে ব্যবসায়ীর এই আর্থিক সম্পর্কের যোগসূত্রই এখন গোটা মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
হাওয়ালার মাধ্যমে বিদেশের মাটিতে কালো টাকা সাদা করার যে জাল জয় কামদার বুনেছিলেন, তার ব্যাপ্তি প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বলে দাবি করেছে ইডি। আদালতকে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি জানিয়েছে, ধৃত ব্যবসায়ীর বাড়ি এবং অফিস থেকে যে ডিজিটাল গেজেট ও মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, সেখান থেকে বিপুল নগদ লেনদেনের অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। ইডি-র আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, জয় হাওয়ালার টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে এক বিশেষ পন্থা অবলম্বন করতেন। লেনদেন হওয়া কারেন্সি নোট বা টাকার ছবি তুলে তা হোপ মেসেজের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে পাঠানো হত এবং সেই নির্দিষ্ট নোটের সিরিয়াল নম্বর দেখেই নগদ হস্তান্তর করা হত। এই আধুনিক ‘টোকেন সিস্টেম’ ব্যবহার করে গত মাত্র চার মাসেই কয়েকশো কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে ইডি-র অনুমান। এছাড়া জয়ের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে দুবাই, ব্রিটেন এবং মালয়েশিয়ার একাধিক সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গিয়েছে। ইডি-র দাবি, জেরার সময় এই বিদেশি যোগ নিয়ে জয় কোনো সদুত্তর দেননি এবং ক্রমাগত তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন।
আদালতে জয়ের আইনজীবী সঞ্জয় দাশগুপ্ত অবশ্য জামিনের সওয়াল করতে গিয়ে পাল্টা যুক্তি দেন। তিনি দাবি করেন, পুলিশের কোনো নির্দিষ্ট অপরাধের চার্জশিটে তাঁর মক্কেলের নাম নেই। ইডি যে দেড় কোটি টাকার লেনদেনের কথা বলছে, তার সপক্ষে নির্দিষ্ট কোনো বেআইনি ভিত্তি নেই বলেই তাঁর অভিযোগ। যদিও ইডি-র আইনজীবী পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন যে, পুলিশের চার্জশিটে নাম না থাকা মানেই দুর্নীতির টাকা লেনদেন হয়নি এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট বা পিএমএলএ অনুযায়ী ইডি স্বতন্ত্রভাবে তদন্ত করার এবং দুর্নীতির উৎস খোঁজার পূর্ণ অধিকার রাখে। ইডি আরও জানায়, তদন্তের স্বার্থে জয়কে একাধিকবার সমন পাঠানো হলেও তিনি তদন্ত এড়িয়ে গিয়েছেন, যা আইনত অপরাধ।
তদন্তকারীরা বর্তমানে জয়ের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রায় ১৫০টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছেন। সোনা পাপ্পুর সঙ্গে লেনদেনের বিষয়ে জয় ১৪-১৫ লক্ষ টাকার কথা স্বীকার করলেও, ইডি-র গোয়েন্দারা তাঁর চ্যাট হিস্ট্রি ঘেঁটে দেখেছেন যে অর্থের অঙ্কটি এর চেয়ে বহুগুণ বেশি। বিদেশি মুদ্রা পাচার এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ আদান-প্রদানের এই চক্রে আর কোন কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন, তা জানতেই জয়কে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে লম্বা জেরা সেশনের পরিকল্পনা করেছে ইডি। তদন্তের বর্তমান পর্যায়ে জয় যদি জামিন পেতেন, তবে তিনি তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করতে পারতেন বা সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারতেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। সেই আশঙ্কাকেই মান্যতা দিয়ে আদালত আগামী আট দিনের জন্য তাঁকে ইডি-র হাতে সঁপে দিল। এখন দেখার, ইডি হেফাজতে থাকাকালীন বেহালার এই ব্যবসায়ীর মুখ থেকে আর কোন কোন হেভিওয়েট নেতার বা পুলিশ আধিকারিকের নাম বেরিয়ে আসে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

