Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

ফেরার পথ চিরতরে বন্ধ: এক অন্য পৃথিবীর খোঁজে নীল গ্রহ ছাড়লেন ২৪০০ ‘মানব-বীজ’

0 53,219,456,758

বিশালাকার মহাকাশযান ‘পাইওনিয়ার’-এ চড়ে নিরুদ্দেশের যাত্রা; পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে নতুন সভ্যতা গড়ার স্বপ্ন না কি এক চরম পলায়নপরতা? সময়টা আজ আর কেবল বিজ্ঞানের পাতায় সীমাবদ্ধ নেই, আজ তা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিচ্ছেদ-সংবাদে পরিণত হয়েছে। গতকাল যখন বিশালাকার মহাকাশযান ‘পাইওনিয়ার’ পৃথিবীর অভিকর্ষজ বল ছিন্ন করে মহাকাশের নিকষ কালো অন্ধকারে মিলিয়ে গেল, তখন তার পেটে থাকা ২৪০০ জন যাত্রী জানতেন— এই পৃথিবীতে তাঁদের ফেরার পথ চিরতরে বন্ধ। কোনো রাজকীয় প্রমোদভ্রমণ নয়, কোনো বৈজ্ঞানিক অভিযান নয়; বরং একদল মানুষের স্বেচ্ছায় পৃথিবী ত্যাগ করে এক অন্য গ্রহে বসতি স্থাপনের এই একমুখী যাত্রা বা ‘ওয়ান-ওয়ে ট্রিপ’ দেখে স্তম্ভিত গোটা বিশ্ব।

বিসর্জনের সুরে নতুন আবাহন: কেন এই দেশান্তরি?

২৪০০ জন মানুষের এই সাহসী অথচ করুণ সিদ্ধান্ত কোনো হঠকারিতা নয়। যাত্রীদের তালিকায় রয়েছেন চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, কৃষিবিদ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও। ‘পাইওনিয়ার’-এর প্রবেশদ্বারে দাঁড়িয়ে শেষ সাক্ষাৎকারে এক যাত্রী বলেন, “পৃথিবী এখন ধুঁকছে। জলবায়ু সংকট, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা আর সম্পদের পাহাড়প্রমাণ অসম বন্টন আমাদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের মুখে ঠেলে দিয়েছে। আমরা পালিয়ে যাচ্ছি না, আমরা আসলে মানবসভ্যতাকে বাঁচিয়ে রাখতে এক নতুন আধার খুঁজতে যাচ্ছি।”

যাত্রীদের চোখেমুখে পৃথিবীর প্রতি যেমন অভিমান ছিল, তেমনই ছিল এক অচেনা আগামীর প্রতি অদম্য আকর্ষণ। তাঁদের দাবি, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করতেই তাঁরা এই ‘মহাজাগতিক আত্মত্যাগ’ বেছে নিয়েছেন।

কারিগরি বিস্ময় ‘পাইওনিয়ার’: এক টুকরো পৃথিবী যখন মহাকাশে

যে জাহাজে চড়ে এই ২৪০০ মানুষ পাড়ি দিচ্ছেন, সেই ‘পাইওনিয়ার’ আসলে একটি চলন্ত শহর। এর ভেতরে রয়েছে:

কৃত্রিম বাস্তুতন্ত্র: বিশালকার কাঁচের গম্বুজের নিচে রয়েছে বনজঙ্গল ও চাষের জমি, যা কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন ও খাদ্য সরবরাহ করবে।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তি: পারমাণবিক ফিউশন চালিত ইঞ্জিন, যা কয়েক আলোকবর্ষ দূরের গ্রহে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।

দীর্ঘমেয়াদী আবাসন: যাত্রীদের ঘুমানোর জন্য রয়েছে ‘ক্রায়োজেনিক স্লিপ’ ব্যবস্থা, যাতে দীর্ঘ কয়েক বছরের যাত্রাপথে শারীরিক বার্ধক্য থমকে থাকে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এটি কোনো সাধারণ মহাকাশযান নয়, বরং এটি একটি ‘লাইফবোট’ বা জীবনতরী।

বিতর্ক ও সমালোচনা: মহাবিপ্লব না কি মহাবিভ্রম?

এই অভিযানকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে দুই মেরুর জনমত। একদিকে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা একে দেখছেন মানবজাতির ‘আন্তঃনক্ষত্রীয় প্রজাতি’ (Interstellar Species) হয়ে ওঠার প্রথম ধাপ হিসেবে। তাঁদের মতে, এটি কলম্বাসের সমুদ্রযাত্রার চেয়েও হাজার গুণ বড় ঝুঁকি।

অন্যদিকে, সমাজকর্মী ও পরিবেশবাদীদের একটি বড় অংশ একে ‘চরম স্বার্থপরতা’ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, যারা পৃথিবীটাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে, তারাই আজ সম্পদ ও প্রযুক্তি নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীকে সুস্থ করার লড়াই না লড়ে এই পলায়নপরতা কি বীরত্বের পরিচয়? প্রশ্ন উঠেছে সেই ২৪০০ মানুষের নৈতিকতা নিয়ে।

এক নতুন সভ্যতার সন্ধানে

গন্তব্য কোনো নাম না জানা এক্সোপ্ল্যানেট, যার পরিবেশ অনেকটা পৃথিবীর মতোই বলে ধারণা নাসার। কিন্তু পৌঁছাতে কত সময় লাগবে? আদেও কি তারা সফল হবে? এর কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর কারো কাছে নেই। ‘পাইওনিয়ার’-এর যাত্রীরা জানিয়েছেন, যদি তারা পৌঁছাতে পারেন, তবে সেখানে কোনো দেশের সীমানা থাকবে না, থাকবে না কোনো যুদ্ধ। গড়ে তোলা হবে এক সাম্যবাদী ও প্রযুক্তি নির্ভর নতুন সমাজ।

আপনি কোন দলে?

আজকের সকালের সূর্যোদয় দেখার সময় পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ হয়তো একবার আকাশের দিকে তাকাবে। ওই যে ২৪০০ মানুষ যারা আর কোনোদিন সমুদ্রের গর্জন শুনবে না, বৃষ্টির সোঁদা গন্ধ পাবে না বা মাটির টান অনুভব করবে না— তাদের সিদ্ধান্ত কি সঠিক?

কল্পনা করুন, আপনাকে যদি আজ সুযোগ দেওয়া হয়— সমস্ত পিছুটান ছিঁড়ে ওই ‘পাইওনিয়ার’-এর একটি টিকিট হাতে নিতে, আপনি কি সঙ্গী হবেন? নাকি নিজের এই রোগাক্রান্ত, ধুঁকতে থাকা প্রিয় পৃথিবীতেই থেকে যাবেন শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত?

পাইওনিয়ার অভিযানের খতিয়ান:

মোট যাত্রী: ২৪০০ জন।

উদ্দেশ্য: নতুন গ্রহে স্থায়ী বসতি স্থাপন।

যাত্রার ধরণ: একমুখী (ফেরার সুযোগ নেই)।

প্রধান চ্যালেঞ্জ: দীর্ঘমেয়াদী নিঃসঙ্গতা, বিকিরণ এবং অজানা পরিবেশ।

পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়ার আগে ‘পাইওনিয়ার’ থেকে শেষ সিগন্যাল এসেছে— “বিদায় পৃথিবী, শুভকামনা রইল মানবতার জন্য।”

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper