AB Live News
ভূমিকম্পে কাঁপল আফগানিস্তান
রবিবার ভোরে এক তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আফগানিস্তানের বিস্তীর্ণ এলাকা। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৬। ভূগর্ভের প্রায় ১৫০ কিলোমিটার গভীরে থাকা এই কম্পনের উৎসস্থল ছিল মূলত আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্ব অংশ। রবিবার ভোর ৫টা ২৯ মিনিট নাগাদ যখন অধিকাংশ মানুষ গভীর ঘুমে মগ্ন, ঠিক তখনই এই কম্পন অনুভূত হয়। তীব্র আতঙ্কে সাধারণ মানুষ ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
প্রাথমিক রিপোর্টে বড়সড় কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর এখনও পর্যন্ত পাওয়া না গেলেও, আফগানিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থান এবং সাম্প্রতিক সময়ের প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলো প্রশাসনকে চরম উদ্বেগে রেখেছে। গত ২-৩ এপ্রিলের ভয়াবহ ভূমিকম্পের রেশ কাটতে না কাটতেই এই নতুন কম্পন আফগানবাসীর মধ্যে ত্রাসের সঞ্চার করেছে। উল্লেখ্য, এপ্রিল মাসের শুরুর দিকে ৫.৮ থেকে ৫.৯ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাবুলের উপকণ্ঠে একই পরিবারের আট সদস্য সহ মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই স্মৃতি আজও টাটকা।
আফগানিস্তানের ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, দেশটি বর্তমানে এক জোড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলা করছে। ভূমিকম্পের পাশাপাশি গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি এবং তার ফলে সৃষ্ট বন্যায় ২৫টি প্রদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় ইতিমধ্যেই ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি। ১৩০টিরও বেশি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে এবং প্রায় ৩০০০ একর কৃষি জমি প্লাবিত হয়েছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে বারবার ভূমিকম্পের ঝটকা উদ্ধারকাজকেও ব্যাহত করছে।
ভূবিজ্ঞানীদের মতে, আফগানিস্তান মূলত ভারতীয় এবং ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এটি অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। বিশেষ করে হিন্দুকুশ পর্বতমালা সংলগ্ন অঞ্চলে প্লেটের সংঘর্ষের ফলে নিয়মিতভাবে কম্পন অনুভূত হয়। রেড ক্রস এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিগ্রহ এবং দুর্বল পরিকাঠামোর কারণে আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের এই ধরণের প্রাকৃতিক বিপর্যয় সহ্য করার ক্ষমতা খুবই কম। বারবার কম্পন এবং বন্যার ফলে গ্রামীণ এলাকার মাটির বাড়িগুলো ভেঙে পড়ার ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।
ভারতের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত আফগানদের জন্য রান্নাঘরের সেট, হাইজিন কিট, প্লাস্টিকের চাদর এবং স্লিপিং ব্যাগ সহ প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। তবে রবিবারের এই কম্পনের পর আফগানিস্তানের প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। আপাতত নতুন কোনও কম্পনের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

