AB Live News
নিয়ন্ত্রণের বাইরে ‘ছোট অভিযান’, ইরান যুদ্ধে কোণঠাসা ট্রাম্প, বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সামরিক তৎপরতাকে ‘ছোট অভিযান’ বলে বর্ণনা করেছিলেন, তা দেখতে দেখতে ২২ দিন পার করল। কিন্তু যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ তো নেই-ই, উল্টো তা এখন হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সমর বিশেষজ্ঞরা। এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ, যার প্রত্যক্ষ প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে থাবা বসিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। বিপর্যস্ত জনজীবন থেকে শুরু করে শেয়ার বাজার— সর্বত্রই এখন যুদ্ধের কালো মেঘ।
মিত্ররাষ্ট্রদের বিমুখতা: একা লড়ছে আমেরিকা
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার আবেদন ও হুমকি দিলেও তাঁর পাশে দাঁড়াতে রাজি হয়নি অনেক মিত্ররাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর যে ডাক আমেরিকা দিয়েছিল, তাতে সাড়া মেলেনি বললেই চলে। এমনকি ইরানে হামলা চালানোর জন্য স্পেনের বিমানঘাঁটি ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিল পেন্টাগন, কিন্তু স্পেন সরকার সরাসরি তা নাকচ করে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক স্তরে বড়সড় কূটনৈতিক ধাক্কা খেয়েছে ওয়াশিংটন।
তেহরানের অদম্য মনোবল ও পালটা আঘাত
তিন সপ্তাহ অতিক্রান্ত হলেও আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর দেশের মনোবল ভাঙতে পারেনি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বাহিনী। পেন্টাগন বারবার ‘লক্ষ্যের খুব কাছে’ পৌঁছানোর দাবি করলেও বাস্তবে ইরান সমানে পালটা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। ড্রোন হামলা থেকে শুরু করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ— তেহরানের প্রতিটি জবাব মার্কিন রণকৌশলকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। রণকৌশলবিদদের মতে, এই যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই আমেরিকা ও তার সহযোগীদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে।
জ্বালানি সংকটে ধুঁকছে বিশ্ব অর্থনীতি
এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বিশ্ব তেল বাজারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় হু হু করে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। ভারতসহ এশিয়ার একাধিক দেশে পেট্রোল-ডিজেলের আকাল দেখা দিতে শুরু করেছে। পরিবহন খরচ বাড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। খোদ আমেরিকার অভ্যন্তরেও ট্রাম্পের এই ‘অপরিণামদর্শী’ যুদ্ধের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে উঠতে শুরু করেছে।
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ও সমর বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের দাবি, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। শুরুতেই যুদ্ধ শেষ করার যে আত্মবিশ্বাস তিনি দেখিয়েছিলেন, তা এখন মরীচিকায় পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে এটি কেবল দুই দেশের লড়াই নয়, বরং এক ভয়াবহ বিশ্বজনীন সংকটের রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তেহরান ও ওয়াশিংটন— কেউই পিছু হটতে রাজি না হওয়ায় শান্তি আলোচনার পথও এখন কার্যত বন্ধ।
সব মিলিয়ে, একবিংশ শতাব্দীর এই রণক্ষেত্র এখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

