AB Live News
রাজস্বে থাবা, জেলায় জাল লটারির রমরমা

মদের পরেই রাজ্যের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস লটারি। কিন্তু সেই লটারিতেই এবার থাবা বসিয়েছে জালিয়াত চক্র। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা জুড়ে ‘ডিয়ার লটারির’ জাল টিকিটের রমরমা কারবারে মাথায় হাত পড়েছে বৈধ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে প্রশাসনের। অভিযোগ, আসল টিকিটের হুবহু নকল তৈরি করে অবাধে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। আর এই জাল টিকিটের কারসাজিতে সরকারের কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, বাজারে প্রচলিত আসল ডিয়ার লটারির আদলেই তৈরি হচ্ছে এই জাল টিকিট। সাধারণ মানুষের পক্ষে আসল ও নকলের ফারাক বোঝা প্রায় অসম্ভব। বিক্রেতাদের একাংশ জানিয়েছেন, আসল টিকিটের তুলনায় এই জাল টিকিট বিক্রি করলে কমিশনের পরিমাণ অনেক বেশি পাওয়া যাচ্ছে। ফলে অধিক মুনাফার লোভে জেলার বহু ছোট বিক্রেতা এখন এই নকল টিকিটের দিকেই ঝুঁকছেন।
লটারি ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাত্র কয়েক মাস আগেও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ লক্ষ ডিয়ার লটারির টিকিট বিক্রি হতো, যার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ২ কোটি টাকা। জেলায় এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষ। শুধুমাত্র বালুরঘাটেই ১ হাজার এবং গঙ্গারামপুরে প্রায় ৬০০ জন ব্যবসায়ী রয়েছেন। কিন্তু গত দু’মাসে চিত্রটা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। গঙ্গারামপুর মহকুমা বর্তমানে জাল লটারির প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি। এর ফলে বৈধ টিকিটের বিক্রি তলানিতে ঠেকেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সরকারি কোষাগারে।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রতিবাদে শুক্রবার বালুরঘাটে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন লটারি ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, গত জানুয়ারি মাসেই গঙ্গারামপুরের পুলিশ আধিকারিকদের বিষয়টি জানানো হয়েছিল, কিন্তু রহস্যজনকভাবে কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, প্রশাসনের একাংশের মদত ছাড়া এমন বিশাল কারবার প্রকাশ্যে চলা অসম্ভব। যদিও পুলিশ প্রশাসন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিষয়টি নিয়ে জেলায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধী পক্ষ এই ঘটনাকে সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে শাসক দল দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, অতি দ্রুত এই জাল লটারির চক্র চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় হাজার হাজার বৈধ ব্যবসায়ী কর্মহীন হয়ে পড়বেন এবং সরকার এক বিশাল অঙ্কের রাজস্ব হারাবে। এখন দেখার, পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ জানানোর পর প্রশাসন কতটা সক্রিয় হয়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

