AB Live News
রাইসিনা হিলে ‘নো-এন্ট্রি’: রাষ্ট্রপতির কাছে সময় পেল না তৃণমূল
নয়াদিল্লি ও কলকাতা: রাজ্য সরকারের আদিবাসী উন্নয়নের খতিয়ান বা ‘রিপোর্ট কার্ড’ হাতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদরা। কিন্তু সেই প্রচেষ্টায় কার্যত জল ঢেলে দিল রাইসিনা হিল। ‘সময়ের অভাব’-এর কারণ দর্শিয়ে বৃহস্পতিবার তৃণমূলের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে রাষ্ট্রপতি ভবন। রাজনৈতিক মহলের মতে, সম্প্রতি শিলিগুড়িতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর প্রোটোকল লঙ্ঘন এবং তাঁকে নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের আবহে এই প্রত্যাখ্যান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
অপমানের ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ ও প্রত্যাখ্যাত আবেদন
গত ৭ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক আদিবাসী সম্মেলনে যোগ দিতে এসে রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি। নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে অনুষ্ঠানের ভেন্যু পরিবর্তন এবং তাঁকে স্বাগত জানাতে মুখ্যমন্ত্রী বা কোনো ক্যাবিনেট মন্ত্রীর অনুপস্থিতি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। এই ঘটনার পর দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা তোপ দেগে বলেন, রাষ্ট্রপতি ‘বিজেপির কথায় চলছেন’। এই তিক্ততা ঢাকতেই ডেরেক ও’ব্রায়েনের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির কাছে উন্নয়নের খতিয়ান পেশ করার সময় চেয়েছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপতি ভবনের ‘না’ বুঝিয়ে দিল, সাংবিধানিক শিষ্টাচার লঙ্ঘনের ফল কতটা কঠিন হতে পারে।
অহংকার বনাম সাংবিধানিক শিষ্টাচার
তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, রাষ্ট্রপতি রাজনীতি করছেন। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, দেশের সর্বোচ্চ পদাধিকারী, যিনি নিজে জনজাতি সমাজ থেকে উঠে এসেছেন, তাঁকে অসম্মান করা আসলে গোটা আদিবাসী সমাজকেই অপমান করার শামিল। রাইসিনা হিলের এই কড়া অবস্থান প্রমাণ করল যে, প্রোটোকল ভাঙা এবং পরে ‘রিপোর্ট কার্ড’ দেখিয়ে তা মেরামতের চেষ্টা সফল হওয়ার নয়। একদিকে রাষ্ট্রপতিকে ‘বিজেপির পুতুল’ বলা, আর অন্যদিকে তাঁর কাছেই স্বীকৃতির শংসাপত্র চাওয়া—তৃণমূলের এই ‘দ্বিচারিতা’ নিয়েই এখন সরব বিরোধী শিবির।
সংঘাতের রাজনীতি ও আদিবাসী উন্নয়নের দাবি
তৃণমূল দাবি করেছে, রাজ্যে আদিবাসী উন্নয়নে ‘মাইলফলক’ তৈরি হয়েছে। অথচ খোদ রাষ্ট্রপতি অভিযোগ করেছেন, শেষ মুহূর্তে ভেন্যু বদলের ফলে সাধারণ আদিবাসী মানুষ অনুষ্ঠানে পৌঁছাতে পারেননি। সম্পাদকীয় মহলের মতে, তৃণমূলের এই আচরণ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং রাজ্যপাল থেকে শুরু করে কেন্দ্রের যেকোনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই সংঘাতের পথে হাঁটা তাদের দীর্ঘদিনের দস্তুর।
তৃণমূলের পরবর্তী পদক্ষেপ
আবেদন খারিজ হলেও তৃণমূল হাল ছাড়তে নারাজ। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁরা আগামী সপ্তাহে ফের সময় চাইবেন। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের প্রশ্ন, যেখানে রাষ্ট্রপতির সম্মান রক্ষার ন্যূনতম সৌজন্য দেখানো হয়নি, সেখানে কেবল রাজনৈতিক চাপ তৈরি করে রাইসিনা হিলের দরজা খোলা কি সম্ভব?
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের একবার কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত তুঙ্গে উঠল। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এখন দেখছে, আদিবাসী উন্নয়নের রাজনীতির আড়ালে কীভাবে সাংবিধানিক মর্যাদার লড়াইয়ে পর্যুদস্ত হতে হচ্ছে শাসক দলকে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

