Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

জ্বালানি-সংকটে হাহাকার, কালোবাজারি রুখতে ময়দানে পুলিশ

0 7,896,638

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কালো মেঘ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল আমজনতার হেঁশেলে। জ্বালানি-সংকটের জাঁতাকলে পিষ্ট গোটা দেশ। কেন্দ্রের মোদি সরকারের ‘ব্যর্থ’ বিদেশনীতি ও কূটনৈতিক হঠকারিতার মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে—এমনই অভিযোগে সরব রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে রান্নার গ্যাসের (LPG) কৃত্রিম সংকট ও কালোবাজারি রুখতে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
লালবাজারের ম্যারাথন তল্লাশি
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই শুক্রবার সকাল থেকে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে কলকাতা পুলিশ। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থাগুলির ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটরদের অফিসে হানা দেন এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের (EB) আধিকারিকরা।
তদন্তের পরিধি: মজুত সিলিন্ডারের সংখ্যা, দৈনিক জোগান এবং বুকিং রেজিস্টার খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
জেলায় জেলায় অভিযান: শুধু কলকাতা নয়, জেলাতেও পুলিশি তৎপরতা তুঙ্গে। ডিআইবি-র আধিকারিকরা বিভিন্ন গোডাউনে হানা দিয়ে যাচাই করছেন সরবরাহ ব্যবস্থা।
সাইবার সতর্কতা: এই সুযোগে গ্যাস বুকিংয়ের নামে সাইবার জালিয়াতরা সক্রিয় হয়েছে। লালবাজারের সাইবার ক্রাইম শাখা সাধারণ মানুষকে ভুয়ো লিঙ্ক বা কল সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
স্থবির জনজীবন: হেঁশেল থেকে মন্দির
প্রশাসনিক তৎপরতা থাকলেও সাধারণ মানুষের আতঙ্ক কমছে না। ভোররাত থেকে গ্যাসের গোডাউনের সামনে চোখে পড়ছে দীর্ঘ লাইন।
বিপর্যস্ত পরিষেবা: একাধিক হাসপাতালে রোগীর পরিজনদের জন্য চালু থাকা ক্যান্টিন বন্ধ হওয়ার মুখে। বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে রাজ্যের জনপ্রিয় ‘মা ক্যান্টিন’ প্রকল্পও।
স্কুলে প্রভাব: সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা মিড-ডে-মিলের। এলপিজি-র অভাবে রাজ্যের বহু স্কুলে এখন ধোঁয়া ওঠা কাঠের উনুনে রান্নার কাজ চলছে।
বন্ধ মন্দির-ভোগ: কলকাতার ইসকন থেকে দিঘার জগন্নাথ ধাম—সর্বত্রই জ্বালানি অভাবে ভোগের মেনুতে কাটছাঁট করতে হয়েছে। অনেক মন্দিরেই আপাতত ভোগ বিতরণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
 বিপাকে অটোচালক ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা
পেট্রোল পাম্পগুলোতে সিএনজি ও পেট্রোলের জন্য ৫-৬ ঘণ্টার অপেক্ষা এখন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে টান পড়ছে অটোচালকদের রোজগারে। অন্যদিকে, বড় বড় রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে রাস্তার ধারের ছোট খাবার দোকান—জ্বালানি অভাবে সবাই দিশেহারা। অনেক রেস্তোরাঁই মেনু কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।
সব মিলিয়ে, জ্বালানি-সংকটের এই আঁচে গোটা রাজ্যের জনজীবন এখন রীতিমতো দগ্ধ। কেন্দ্রের অসহযোগিতা ও জোগানে ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper