AB Live News
হরমুজ়ে অশনি সঙ্কেত, ট্রাম্পের তুরুপের তাস আম্বানি
পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্রে বারুদের গন্ধ যত বাড়ছে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের কালো মেঘ ততই ঘনীভূত হচ্ছে। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ় প্রণালী (Strait of Hormuz) কার্যত স্তব্ধ হয়ে যাওয়ায় থমকে গিয়েছে বিশ্ব তেলের বাজার। এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেই মাস্টারস্ট্রোক দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার মাটিতে বিশাল তৈল শোধনাগার তৈরির ঘোষণা করলেন তিনি, আর এই মেগা প্রোজেক্টের নেপথ্যে রয়েছেন ভারতীয় শিল্পপতি মুকেশ আম্বানি।
উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে তেল সরবরাহের প্রধান ধমনী হল হরমুজ় প্রণালী। সামরিক সংঘাত শুরু হতেই অভিযোগ উঠেছে, ইরান এই জলপথ অবরোধ করে রেখেছে। ফলে শত শত পণ্যবাহী জাহাজ ও তেলের ট্যাঙ্কার মাঝসমুদ্রে আটকে পড়েছে। জ্বালানি না পৌঁছনোয় ইউরোপ ও এশিয়ার একাধিক দেশে হাহাকার শুরু হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা।
ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, “বিশ্ব যখন জ্বালানি সঙ্কটে ধুঁকছে, তখন আমরা আমেরিকাকে শক্তির কেন্দ্রে পরিণত করছি। ভারতীয় বন্ধুদের সহযোগিতায় এই নতুন শোধনাগার হবে আধুনিক প্রযুক্তির নিদর্শন।”
জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে ট্রাম্প প্রশাসন এবার সরাসরি উৎপাদনে জোর দিচ্ছে। গুজরাতের জামনগরে বিশ্বের বৃহত্তম তৈল শোধনাগার চালানোর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবার আমেরিকায় বিনিয়োগ করতে চলেছে।
প্রকল্পটির বিশেষত্ব হল– ক) ভারতীয় বিনিয়োগ: রিলায়্যান্সের প্রযুক্তি ও পুঁজি ব্যবহার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে উঠবে আধুনিক শোধনাগার। খ) কর্মসংস্থান: এই প্রকল্পের ফলে আমেরিকায় হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। গ) বিকল্প পথ: হরমুজ় প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব মজুত ভাণ্ডার শক্তিশালী করা।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বিশ্বের অন্য প্রান্তে তেল সরবরাহ হয় উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে। এই পরিবহণে হরমুজ় প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। এর একদিকে ওমান, অন্যদিকে ইরান। সামরিক সংঘাত শুরু হতেই এই প্রণালীকে স্তব্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। হরমুজ় প্রণালীতে চারপাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন পণ্যবোঝাই জাহাজ, যার অধিকাংশতেই তেল রয়েছে। বিশ্বের নানা দেশে তা রফতানির কথা থাকলেও ইরানের ‘অবরোধের’ কারণে আটকে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে জ্বালানি বা তেল না-পৌঁছোনোয় সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। তার মধ্যেই নিজেদের দেশে তৈল শোধনাগার তৈরির ঘোষণা করলেন ট্রাম্প। তা-ও আবার ভারতীয় ব্যবসায়ীর সংস্থার বিনিয়োগে! উল্লেখ্য, গুজরাতের জামনগরে যে তৈল শোধনাগারটি আছে, তা-ও রিলায়্যান্সের অধীনে।
জামনগরের ধাঁচেই আমেরিকায় এই শোধনাগার তৈরি হলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় ব্যবসায়িক শক্তির দাপট আরও বাড়বে। কূটনৈতিক মহলের মতে, ট্রাম্প ও আম্বানির এই রসায়ন বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। তবে হরমুজ়ের জট না কাটলে স্বল্পমেয়াদে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

