AB Live News
গ্যাস সংকটে স্কুলের মিড-ডে মিল! কাল থেকে কী হবে পড়ুয়াদের?
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের আঁচ এবার সরাসরি পড়ছে রাজ্যের সরকারি স্কুলের রান্নাঘরে। একটি স্কুলের পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির প্রায় ৪৫০ জন পড়ুয়ার মধ্যে গড়ে ৩৫০ জন প্রতিদিন মিড-ডে মিলের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে নতুন এলপিজি সিলিন্ডার বুকিংয়ের জটিলতা, হোম ডেলিভারি বন্ধ এবং কমার্শিয়াল গ্যাস সরবরাহে কড়া বিধিনিষেধের কারণে স্কুলের গ্যাস মজুত প্রায় শেষের দিকে।
স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, প্রতি মাসে এই ৩৫০ জন পড়ুয়ার জন্য রান্না করতে গড়ে ৬ থেকে ৭টি সিলিন্ডার লাগে। কিন্তু এখন শেষ যে কয়েকটি সিলিন্ডার ছিল, তা দিয়েই আজকের মিড-ডে মিলের রান্না সম্পন্ন হয়েছে। কাল থেকে কী হবে—এই প্রশ্নই এখন স্কুল শিক্ষক, রাঁধুনি এবং অভিভাবকদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
এক শিক্ষকের কথায়, “আমরা শেষ সম্বল কেমিস্ট্রি ল্যাবের গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছি। ল্যাবের কাজ বন্ধ রেখে পড়ুয়াদের খাবার রান্না করা হয়েছে। কিন্তু এটা তো স্থায়ী সমাধান নয়। সরকারি সরবরাহ না এলে কাল থেকে হয়তো শুকনো খাবার বা বিস্কুট দিয়েই দিন কাটাতে হবে ছেলেমেয়েদের।”
এই সংকট শুধু একটি স্কুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের জেরে বিশ্বব্যাপী এলপিজি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ভারত সরকার ঘরোয়া ব্যবহারের জন্য অগ্রাধিকার দিয়ে রিফাইনারিগুলিকে উৎপাদন বাড়াতে নির্দেশ দিলেও কমার্শিয়াল সিলিন্ডার (হোটেল, রেস্তোরাঁ, স্কুল ইত্যাদির জন্য) সরবরাহে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ফলে অনেক স্কুলে কাঠের উনুন বা অন্যান্য বিকল্পের দিকে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে, যা পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও একই অবস্থা। কোথাও কোথাও স্কুল কর্তৃপক্ষ কয়লা বা কাঠের চুলায় রান্না শুরু করেছেন। কিন্তু এতে দূষণ বাড়ছে এবং রান্নার গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
পড়ুয়াদের পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য চালু PM POSHAN (মিড-ডে মিল) প্রকল্প এখন বিপর্যয়ের মুখে। অভিভাবকরা বলছেন, “এই খাবার অনেক দরিদ্র পরিবারের বাচ্চাদের একবেলা পেট ভরানোর একমাত্র ভরসা। গ্যাস না থাকলে কী করে চলবে?”
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা দফতর ও খাদ্য দফতরের সঙ্গে আলোচনা চলছে। কিছু ক্ষেত্রে ঘরোয়া সিলিন্ডার ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না হলে লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার পুষ্টি কর্মসূচি বিপন্ন হয়ে পড়বে।
এই সংকটের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—পড়ুয়াদের পেটে খাবার পৌঁছানো কি এখনও ‘অত্যাবশ্যক’ বলে গণ্য হবে না?
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

