AB Live News
জাল নথিতে এদেশি সেজে লিভ-ইন, প্রেমিকার গর্ভপাতে ধৃত বাংলাদেশি
অভিযুক্ত বাংলাদেশী যুবক
চার বছরের প্রেম। তারপর দু’বছর ধরে লিভ-ইন সম্পর্ক। কিন্তু প্রেমিকা অন্তঃসত্ত্বা হতেই সম্পর্কের সব মাধুর্য নিমেষে তিক্ততায় বদলে গেল। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডেকে পাঠিয়ে ঠান্ডা পানীয়ের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে প্রেমিকার গর্ভপাত করানোর অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতার গরফা থানা এলাকায়। অভিযুক্ত যুবক প্রদ্যুম্ন দাস ওরফে আদি-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্ত যুবক আদতে ভারতের নাগরিক নয়, সে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী এক বাংলাদেশি।
শহরের এক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট টিমের ডান্স কোরিওগ্রাফার ওই তরুণীর সঙ্গে ২০২২ সাল থেকে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন পেশায় ফটোগ্রাফার প্রদ্যুম্ন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তরুণী জানতে পারেন তিনি সন্তানসম্ভবা। এরপর থেকেই শুরু হয় টানাপোড়েন। অভিযোগ, প্রদ্যুম্ন তাঁকে গর্ভপাতের জন্য ক্রমাগত চাপ দিতে থাকে ও মারধর করে। কিন্তু তরুণী মাতৃত্বের স্বাদ পেতে অনড় ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৪ মার্চ বিবাদ মিটিয়ে নেওয়ার বাহানায় প্রদ্যুম্ন ওই তরুণীকে হালতু এলাকায় এক বন্ধুর বাড়িতে ডাকে। সেখানেই তাঁকে ঠান্ডা পানীয় অফার করা হয়। তরুণীর দাবি, গ্লাসে ঢেলে দেওয়া ওই পানীয় খাওয়ার পরেই তিনি চরম অসুস্থ বোধ করেন। বাড়ি ফেরার পর শুরু হয় প্রবল রক্তক্ষরণ এবং গর্ভস্থ ভ্রূণের মৃত্যু হয়। নিজেকে সামলে নিয়ে তরুণী গরফা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত যুবক জাল নথিপত্র ব্যবহার করে গরফা এলাকার কলুপাড়ায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিল। এমনকি নিজের আসল পরিচয় গোপন করেই সে ওই তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। জাল নথির সাহায্যে সে কীভাবে এতগুলো সরকারি পরিচয়পত্র জোগাড় করল, তার নেপথ্যে কোনও বড় চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
অভিযোগকারিণী তরুণী বলেন, “বিয়ের ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমাকে ডাকা হয়েছিল। বিশ্বাসঘাতকতার পাশাপাশি আমার গর্ভস্থ সন্তানকে ওরা নৃশংসভাবে মেরে ফেলেছে। আমি কঠোর শাস্তি চাই।”
বর্তমানে অভিযুক্ত পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। পুলিশ সেই ‘বন্ধুর’ ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে যার বাড়িতে ওই পানীয় খাওয়ানো হয়েছিল।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

