AB Live News
রঙের আবিরে ঘুচল ভেদাভেদ, দেবা শরিফে সম্প্রীতির হোলি

রাজনীতির কারবারিরা যখন মেরুকরণের অঙ্ক কষতে ব্যস্ত, তখন উত্তরপ্রদেশের বারাবাঙ্কির ‘দেবা শরিফ’ মাজার এক অন্য ভারতের ছবি আঁকল। বসন্তের মাতাল হাওয়ায় হাজি ওয়ারিস আলি শাহের দরগা চত্বর হয়ে উঠল এক জীবন্ত ক্যানভাস, যেখানে ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল লাল-নীল-সবুজ আবির। বাতাসে সুফি কবিতার সুর আর মানুষের মুখে ‘জয় শ্রী রাম’ ও ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি— সব মিলিয়ে এক অভূতপূর্ব ঐক্যের সাক্ষী থাকল এই তীর্থক্ষেত্র।
একই আধারে রব আর রাম
ঊনবিংশ শতকের প্রখ্যাত সুফি সাধক হাজি ওয়ারিস আলি শাহের এই মাজার দীর্ঘকাল ধরেই ‘সর্বধর্ম সমন্বয়’-এর প্রতীক। এখানে উৎসবের মূল দর্শন একটাই— ‘যিনি রব, তিনিই রাম’। হোলির দিন এই দর্শনেরই বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়। কেবল হিন্দু বা মুসলিম নয়, শিখ ধর্মাবলম্বী মানুষও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই আধ্যাত্মিক আবহে সামিল হতে ছুটে আসেন। এখানে পরিচয় কেবল একজন ‘ভক্তের’, আর ভাষা কেবল ‘ভালোবাসার’।
ইতিহাসের পাতায় সম্প্রীতির শিকড়
দেবা শরিফের এই অন্তর্ভুক্তিমূলক চেতনার ইতিহাস বেশ প্রাচীন। স্থানীয় বাসিন্দারা গর্বের সঙ্গে জানান, এই পবিত্র মাজারটি নির্মাণ করেছিলেন রাজা পঞ্চম সিংহ নামে এক হিন্দু ভক্ত। সেই থেকেই এই তীর্থক্ষেত্রটি দুই সম্প্রদায়ের মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে। অনেক হিন্দু তীর্থযাত্রী হাজি ওয়ারিস আলি শাহকে শ্রীকৃষ্ণের এক বিশেষ রূপ হিসেবেও শ্রদ্ধা করেন। আশ্চর্যের বিষয় হল, প্রতি বছর হোলির দিন এখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের চেয়েও অনেক সময় হিন্দু ভক্তদের ভিড় বেশি দেখা যায়।
“এখানে এসে রঙের যে বন্যায় ভেসেছিলাম, তা চার দশক ধরে আমার স্মৃতিতে অমলিন। এই মাজার কেবল পাথর দিয়ে তৈরি নয়, এটি মানুষের বিশ্বাসের সেতু।” বললেন প্রতাপ জয়সওয়াল নামে এক প্রবীণ দর্শনার্থী।
রমজান ও বসন্তোৎসবের মেলবন্ধন
এ বছর হোলি ও রমজান মাস কাছাকাছি সময়ে হওয়ায় উৎসবের মাহাত্ম্য যেন দ্বিগুণ বেড়েছে। মাহোবা থেকে আসা মহম্মদ নাতীক বলেন, “উপবাসের সংযম আর রঙের আনন্দ যখন একসঙ্গে ধরা দেয়, তখন বোঝা যায় ঈশ্বর ও আল্লাহ আলাদা নন। আমাদের মুখে লেগে থাকা রঙ যেমন সহজে মোছে না, তেমনই এই ভ্রাতৃত্বের স্মৃতিও অটুট থাকবে।”
জাতপাতের উর্ধ্বে একসূত্রে ভারত
সারা দেশে যখন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে নানা বিতর্ক চলে, তখন দেবা শরিফের এই ‘আবিরি খেলা’ এক শক্তিশালী সামাজিক বার্তা দেয়। এখানে হিন্দুরা মুসলিমদের আলিঙ্গন করছেন, আবার মুসলিমরা হিন্দুদের গালে আবির মাখিয়ে দিচ্ছেন। কোনো বিভেদ নেই, নেই কোনও সংশয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা এই প্রথা প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, ভারতের শিকড় আজও সম্প্রীতির গভীরে প্রোথিত।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon Web Desk , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon Web Desk হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

