AB Live News
স্যামসনের দাদাগিরিতে সেমিফাইনালে ভারত
শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়; চার বল বাকি থাকতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল টিম ইন্ডিয়া। ভারতের এই জয়ে নেপথ্য নায়ক সঞ্জু স্যামসন। রথী-মহারথীদের ব্যর্থতা কার্যত একাই ঢাকলেন তিনি।
ইডেনের দর্শক নিয়ে একটা আভাস পাওয়া গিয়েছিল শনিবারই। রবিবারও দেদার কালোবাজারি। ৯০০ টাকার টিকিট বিকোচ্ছে চার হাজার টাকায়। তবুও হাতছাড়া করতে নারাজ সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীরা। অভিষেক, ঈশান, সূর্যকুমারদের জার্সি গায়ে গগনভেদী চিৎকারে প্রিয় দলকে সমর্থন করার সুযোগ আর কে-ই বা হাতছাড়া করতে চায়! তারই মধ্যে অবশ্য বিরাট-রোহিতের জার্সিও ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে যাই হোক, ইডেন এদিন হাউসফুল। গ্যালারিতে তাকালে মনে হবে যেন নীল তরঙ্গ। প্রায় ষাট হাজার দর্শকের এই ম্যাচ পাশাপাশি বসে তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করলেন জয় শাহ, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়রা।
এদিন টস ভাগ্য ছিল সূর্যকুমারের সঙ্গেই। জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক। ভারত দল পরিবর্তন না করলেও, ওয়েস্ট ইন্ডিজের টিম লিস্ট দেখে অবাক হতেই হবে! ব্র্যান্ডন কিংয়ের পরিবর্তে তারা দলে নিয়েছে আকাইল হোসেনকে। একজন ওপেনারের পরিবর্তে স্পিনিং অলরাউন্ডার। আর ওপেনের জায়গায় সাই হোপের সঙ্গে নাম লেখা রস্টন চেজের! যা দেখে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদেরও চক্ষু চড়ক গাছে।
ভারতের সামনে প্রথম সুযোগ আসে তৃতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে। আর্শদীপ সিংয়ের বলটি চেজ ঠেলে দিয়ে রান নিতে যান। কিন্তু হোপ রাজি ছিলেন না। বল যায় বরুণ চক্রবর্তীর হাতে। কিন্তু সঞ্জু স্যামসনের দিকে না ছুড়ে বরুণ বলটি দেয় নন-স্ট্রাইক এন্ডে। পঞ্চম ওভারে বল করতে আসেন জসপ্রীত বুমরা। শেষ বলে চেজের একেবারে সহজ ক্যাচ ফসকান অভিষেক শর্মা। শুধু একবারই নন, ম্যাচের শেষ দিকে আরও একটি ক্যাচ মিস করেন তিনি। পাওয়ার প্লেতে কোনও উইকেট না হারিয়ে ৪৫ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এবারের বিশ্বকাপে প্রথম কোনও দল ভারতের বিরুদ্ধে ওপেনিং জুটিতে ৫০-এর বেশি রান করল। অবশেষে ৬৮ রানে ভাঙল জুটি। সৌজন্যে বরুণ। নবম ওভারের পঞ্চম বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন হোপ। ৩২ রান করলেও, তার জন্য ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক নিয়েছেন ৩৩ বল। ফলে হোপের এই ইনিংসকে মন্থর বলা যেতেই পারে। তবে বিশ্বকাপে প্রথমবার ওপেন করতে নেমে নজর কাড়লেন চেজ। তাঁকে সঙ্গ দিতে মারকাটারি ইনিংস শুরু করেন শিমরন হেটমেয়ার। কিন্তু বেশিক্ষণ টেকেননি তিনি। মাত্র ১২ বলে ২৭ করে বুমরার বলে ফেরেন হেটমেয়ার। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি তিনি।
চেজের ইনিংস শেষ হয় সূর্যকুমারের একটা দুর্দান্ত ক্যাচে। ২৫ বলে ৪০ রান করে আউট হন একই ওভারের পঞ্চম বলে। তবে এক্ষেত্রে বুমরার থেকে সূর্যর কৃতিত্ব অনেক বেশি। ১২তম ওভারে মাত্র চার রান দিয়ে দুই মারকুটে ব্যাটারকে ফেরান বুমরা।
শেরফানে রাদারফোর্ড ৯ বলে ১৪ রান করেন। ১৬তম ওভারে আর্শদীপ আবার ২৪ রান দিয়ে বসেন। হাত খোলেন রভম্যান পাওয়েল। ১৯ বলে ৩৪ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। সঙ্গে জেসন হোল্ডার অপরাজিত থাকেন ২২ বলে ৩৭ রান করে। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৫ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ভারতের সবথেকে সফল বোলার বুমরা। ৩৬ রান দিয়ে দুই উইকেট নেন তিনি। একটি করে উইকেট পেয়েছেন হার্দিক পান্ডিয়া ও বরুণ। অক্ষর ও আর্শদীপ কোনও উইকেট পাননি। এই ম্যাচে ষষ্ঠ বোলারের ব্যবহার করেননি স্কাই।
অভিষেক শর্মাকে সামনে পেয়ে ক্যারিবিয়ানরা শুরুটাও করেন হোসেনকে দিয়ে। স্পিনের সামনে অভিষেকের দুর্বলতা প্রকট হয়ে উঠেছে এবারের বিশ্বকাপে। প্রথম ওভার কোনও মতে সামলে দিলেও, তৃতীয় ওভারে উইকেট দিয়ে এলেন তিনি। হোসেনকে ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ হয়ে ফেরেন অভিষেক (১১ বলে ১০)। ঈশান কিসানও মাত্র ৬ বল টিকেছিলেন ক্রিজে। ১০ রান করে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ আউট হন তিনি।
এরপর ম্যাচের হাল ধরেন সঞ্জু ও সূর্য। ২৬ বলে নিজের অর্ধশতরান পূরণ করেন স্যামসন। চলতি বিশ্বকাপে এটাই প্রথম হাফসেঞ্চুরি তাঁর। স্কাই ১৬ বলে ১৮ রান করে আউট হওয়ার পর শুরু করেন তিলক বর্মা। ১৫ বলে ২৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে যান তিনি। হার্দিক করেন ১৪ বলে ২৭। বাকি কাজটা করেন শিবম দুবে ও সঞ্জু। তবে দর্শকরা মুখিয়ে বসেছিলেন সঞ্জুর শতরানের অপেক্ষায়। সেটা না হওয়ায় একটা আক্ষেপ থেকেই গেল। কিন্তু সঞ্জুর একটা দিক ধরে রেখে পরিণত ব্যাটিং দলকে জয় এনে দিল। ৫০ বলে ৯৭ রান করে অপরাজিত থাকলেন ম্যাচের নায়ক।
ইডেনে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে কখনও হারেনি ভারত। এবারও সেই ধারা বজায় রাখল টিম ইন্ডিয়া। ২০১১ সালের পর এখনও পর্যন্ত ইডেনে হারের মুখ দেখতে হল না মেন ইন ব্লুকে। এবার সামনে ইংল্যান্ড। আবার সেই ওয়াংখেড়ে। ২০১১ সালে এই স্টেডিয়ামে বিশ্বসেরা হয়েছিল ভারত। এবার ফাইনালে ওঠার লড়াই। অপেক্ষা আর মাত্র কয়েকটা দিনের।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

