AB Live News
শিয়ালদহ আদালত চত্বরে বিস্ফোরক অভিযোগ সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে সরব অভয়ার বাবা, “ধামাচাপার চেষ্টা”
![]()
শিয়ালদহ আদালত চত্বরে তীব্র আবেগ ও ক্ষোভে ফেটে পড়লেন অভয়ার বাবা। তদন্তের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআই-এর বিরুদ্ধে সরাসরি আঙুল তুলে তিনি অভিযোগ করেন, শুরুতে যে ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’-এর কথা বলা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেই তদন্তই নাকি ধামাচাপা দেওয়ার পথে এগোচ্ছে।
আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে তাঁর সাফ বক্তব্য, তদন্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। “অভয়ার মৃত্যু কোথায় হয়েছে, দেহ কোথায় পড়ে ছিল—এসবই সিবিআই স্পষ্ট করতে পারেনি,” দাবি তাঁর। ক্ষোভের সুরে তিনি বলেন, তদন্তে গাফিলতি হচ্ছে এবং পরিবারের দেওয়া একাধিক তথ্য গুরুত্ব পায়নি।
তদন্তকারী আধিকারিক সীমা আহুজা হাসরতকে নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভয়ার বাবা। তাঁর দাবি, অতীতে আলোচিত উন্নাও কাণ্ড তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন ওই আধিকারিক। সেই অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান মামলাতেও যথাযথ নিরপেক্ষতা দেখা যাচ্ছে না। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সিবিআই বা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের তরফে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
তিনি আরও বলেন, তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অসন্তোষ রয়েছে তাঁদের। “আমরা যে তথ্য ও নথি দিয়েছি, তা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে,” অভিযোগ তাঁর।
অভয়ার বাবার বক্তব্যে উঠে আসে পুরস্কার ও পদোন্নতির প্রসঙ্গও। তাঁর দাবি, তদন্তকারী আধিকারিক অতীতে রাষ্ট্রপতির পুরস্কার পেয়েছেন এবং দ্রুত পদোন্নতিও হয়েছে। যদিও এই মন্তব্যের সত্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে সরকারি স্তরে কোনও বক্তব্য মেলেনি।
আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি, এই লড়াই থামবে না। প্রয়োজনে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে শুনানি হলে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। প্রয়োজন হলে দেশের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্টেও যাওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।
“বিচার চাই, এবং তা আদায় করেই ছাড়ব,” আবেগঘন কণ্ঠে বলেন তিনি। তদন্তের গতি ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিবিআইয়ের ভূমিকার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার দাবি জানান।
এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত সিবিআইয়ের তরফে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তদন্ত চলমান থাকায় সংস্থা সাধারণত প্রকাশ্যে মন্তব্য করে না বলেই প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।
শিয়ালদহ আদালত চত্বরে এদিনের ঘটনাপ্রবাহ স্পষ্ট করে দিল, মেয়ের মৃত্যুর বিচার পেতে লড়াইয়ে আপসের পথ বেছে নিতে নারাজ পরিবার। এখন নজর আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon Web Desk , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon Web Desk হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

