AB Live News
রাজ্যে নিপা ভাইরাসের হানা, জীবনযুদ্ধের অবসান, বারাসাতের হাসপাতালে তরুণী নার্সের মৃত্যু

রাজ্যে নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক এবার আরও ঘনীভূত হল। মারণ ভাইরাসের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর হার মানলেন এক নির্ভীক স্বাস্থ্যযোদ্ধা। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিট নাগাদ বারাসাতের নারায়ণা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ওই তরুণী নার্সের। তাঁর এই প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যমহলে।
গত ৪ জানুয়ারি ওই সেবিকার শরীরে প্রথম জ্বরের উপসর্গ দেখা দিয়েছিল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ১০ জানুয়ারি তাঁকে বারাসাতের এই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা চলাকালীন এক সময় তাঁর শারীরিক অবস্থার যথেষ্ট উন্নতি লক্ষ করা গিয়েছিল। চিকিৎসায় সাড়া দিয়ে তিনি ভেন্টিলেশন সাপোর্ট থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। এমনকি তিনি বিছানায় উঠে বসতেও পারছিলেন, যা চিকিৎসকদের মনে আশার আলো জাগিয়েছিল।
কিন্তু দীর্ঘ সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকার ফলে তাঁর শরীরে অন্য সংক্রমণ থাবা বসায়। চিকিৎসকদের অনুমান, হাসপাতাল থেকেই তাঁর ফুসফুসে মারাত্মক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত তাঁর অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তিনি কোমায় চলে যান। বৃহস্পতিবার বিকেলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্যান্য আক্রান্তদের খবর কিছুটা মিশ্র। একই হাসপাতালের এক পুরুষ নার্সও নিপা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে তিনি ভাইরাস মুক্ত হয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে এবং তিনি বাড়িতে কড়া নজরদারিতে ও আইসোলেশনে রয়েছেন।
চিন্তা বাড়ছে কাটোয়ার নার্সকে নিয়ে। কাটোয়ার জনৈক তরুণী নার্স এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। তিনি বর্তমানে কোমায় রয়েছেন এবং তাঁর অবস্থার কোনও বিশেষ উন্নতি হয়নি।
পূর্ব মেদিনীপুরের এক নার্সের নিপা রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। পরপর দু’বার রিপোর্ট নেগেটিভ এলে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
রাজ্যে নিপা ভাইরাসের উৎস সন্ধানে নেমে বনদফতর ও স্বাস্থ্য দফতর সম্প্রতি কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় বাদুড় নিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফলাফল অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
কলকাতা বিমানবন্দর এলাকা থেকে সংগৃহীত ৫টি বাদুড়ের মধ্যে ৪টির শরীরেই নিপা ভাইরাসের অ্যান্টিবডি মিলেছে।
আলিপুর এলাকা থেকে ধরা ৭টি বাদুড়ের মধ্যে ৩টির শরীরে নিপা অ্যান্টিবডি পাওয়া গিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মত, বাদুড়ের শরীরে এই অ্যান্টিবডি পাওয়ার অর্থ হল, এই স্তন্যপায়ী প্রাণীগুলি নিপা ভাইরাস বহন করছে। এরাই রাজ্যে ভাইরাস ছড়ানোর প্রধান উৎস হতে পারে।
নিপা ভাইরাসের এই মারণ থাবা রুখতে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর ইতিমধ্যে হাই অ্যালার্ট জারি করেছে। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে তাঁদের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে হাসপাতাল চত্বর এবং বাদুড় অধ্যুষিত এলাকায় সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon Web Desk , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon Web Desk হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

