AB Live News
কলেরার গ্রাসে জামনগর, পানীয় জলে ‘বিষ’, আক্রান্ত বহু শিশু, মহামারী রুখতে রণংদেহি মূর্তিতে প্রশাসন

উৎসবের আমেজ ফিকে করে দিয়ে বিভীষিকার ছায়া নেমে এসেছে গুজরাটের জামনগর শহরে। গত কয়েকদিনে কলেরার প্রকোপে কার্যত থরথর করে কাঁপছে গোটা এলাকা। প্রশাসনের ঘুম উড়িয়ে দিয়ে গত ৪৮ ঘণ্টায় শুধুমাত্র বেডেশ্বর এলাকাতেই অন্তত ৪৮টি নতুন সংক্রমণের খবর পাওয়া গিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ৩১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছে ৭টি নিষ্পাপ শিশুও। ১৫ জনের শরীরে ইতিমধ্যেই কলেরার প্রাণঘাতী জীবাণুর উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসকরা।
প্রশাসনের কাঠগড়ায় ‘অবৈধ সংযোগ’
কেন হঠাৎ এই মহামারী সদৃশ পরিস্থিতি? জামনগর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (JMC) প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুর কমিশনার ডি.এন. মোদী জানিয়েছেন, পানীয় জলের প্রধান পাইপলাইনে নর্দমার পচা জল মিশে যাওয়ার কারণেই এই ভয়াবহ সংক্রমণ। অভিযোগ উঠেছে, এলাকার বেশ কিছু বাসিন্দা ম্যানহোলের ভেতর দিয়ে বিপজ্জনকভাবে এবং অবৈধ উপায়ে জলের সংযোগ নিয়েছিলেন। কোনও একটি পাইপলাইনে ছিদ্র তৈরি হওয়ায় সেই পথ দিয়েই নর্দমার বিষাক্ত বর্জ্য জল ঢুকে পড়ে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে। আর সেই জল পান করেই একের পর এক মানুষ পেটের যন্ত্রণা ও বমির উপসর্গ নিয়ে শয্যাশায়ী হচ্ছেন।
যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নবান্ন-সদৃশ তৎপরতা ও স্বাস্থ্য সমীক্ষা
পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে চলে না যায়, তার জন্য কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে পুর প্রশাসন। জামনগর পুরসভার পক্ষ থেকে ২০ জন দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর একটি বিশেষ ‘র্যাপিড রেসপন্স টিম’ গঠন করা হয়েছে।
বিশাল সমীক্ষা
এই দলটি ইতিমধ্যেই এলাকার ২,৭০০টিরও বেশি বাড়িতে গিয়ে সশরীরে খোঁজ নিয়েছে। কারওর মধ্যে ন্যূনতম উপসর্গ দেখলেই তৎক্ষণাৎ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
শোধন ও সচেতনতা
বাড়ি বাড়ি বিলি করা হচ্ছে ক্লোরিন ট্যাবলেট। জল ফুটিয়ে খাওয়ার জন্য প্রচার চালানো হচ্ছে মাইকে।
বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে যেসব এলাকায় পাইপলাইনের সংক্রমণ মিলেছে, সেখানে আপাতত জল সরবরাহ বন্ধ রেখে ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দিচ্ছে পুরসভা।
সংক্রমিত এলাকার পাইপলাইন সংস্কারের কাজ এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে। একই সঙ্গে নর্দমা পরিষ্কার ও আবর্জনা অপসারণের জন্য বিশেষ অভিযান শুরু করেছে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন। পুর কমিশনার স্পষ্ট জানিয়েছেন, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস করে যাঁরা অবৈধভাবে জলের সংযোগ নিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, আক্রান্ত শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ, ডিহাইড্রেশন বা বমি ভাব দেখা দিলেই যেন এক মুহূর্ত দেরি না করে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করেন সাধারণ মানুষ। জামনগরের আকাশ থেকে এই কলেরার কালো মেঘ সরাতে এখন একজোট প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতর।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon Web Desk , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon Web Desk হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

