AB Live News
‘মাটি কামড়ে পড়ে থাকুন, বিজেপিকে এক ইঞ্চি জমিও নয়’, ভবানীপুরে কাউন্সিলরদের কড়া বার্তা মমতার

ভোট ঘোষণার প্রাক্কালে নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর নিয়ে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে নারাজ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নবান্ন থেকে ফিরেই কালীঘাটের বাসভবনে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের কাউন্সিলর, বিএলএ-১ (BLA 1) এবং বিএলএ-২ (BLA 2)-দের নিয়ে এক জরুরি সাংগঠনিক বৈঠকে বসেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভোটার তালিকার শুনানি ও চূড়ান্ত প্রকাশের দিনক্ষণ পিছিয়ে যাওয়ার পরিপ্রক্ষিতে নেত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ— “১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নাওয়া-খাওয়া ভুলে রাস্তায় পড়ে থাকতে হবে। একজন বৈধ ভোটারের নামও যেন বাদ না পড়ে।”
‘ডেডলাইন’ পর্যন্ত সতর্ক নজরদারি
এদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও দেবাশিস কুমার সহ প্রায় ২৮০ জন বিএলএ এবং দলীয় কর্মী। নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকার শুনানির দিন পিছিয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি করায় দলীয় কর্মীদের বাড়তি সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন নেত্রী। তিনি বলেন, “আপনারা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন, কিন্তু লড়াই এখনও শেষ হয়নি। শুনানির দিন বাড়ায় হাতে যে ক’টা দিন সময় পাওয়া গেল, তাকে কাজে লাগিয়ে বাড়ি বাড়ি পৌঁছাতে হবে।”
বৈঠকের প্রধান নির্যাস:
বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ: প্রতিটি বুথে ভোটার তালিকা মিলিয়ে দেখতে হবে কাদের নাম বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
সহযোগিতার হাত
যারা শুনানির ডাক পাচ্ছেন কিন্তু পৌঁছাতে পারছেন না, তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সাজিয়ে দিতে হবে।
তথ্য সংগ্রহ
প্রতিদিনের গতিপ্রকৃতি নোট করে দলীয় নেতৃত্বকে রিপোর্ট করতে হবে।
বিজেপি ও কমিশনকে নিয়ে আক্রমণাত্মক নেত্রী বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে আসা মাইক্রো অবজারভারদের দিয়ে ভোটার তালিকা প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সেই পরিকল্পনা ধাক্কা খেয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, “বাইরে থেকে আসা মাইক্রো অবজারভারদের ক্ষমতা খর্ব হয়েছে। শেষ কথা বলবেন ইআরও (ERO)-রাই। কিন্তু মনে রাখবেন, বিজেপি সব সময় পিছনের দরজা দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করবে। কমিশনের প্রতিটি পদক্ষেপের দিকে তীক্ষ্ম নজর রাখতে হবে।”
ফিরহাদ-দেবাশিসদের ওপর বিশেষ দায়িত্ব
এদিনের বৈঠকে নেত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, ভবানীপুরের প্রতিটি ওয়ার্ডের কাজের তদারকি করবেন ফিরহাদ হাকিম ও দেবাশিস কুমার। তাঁরা নিয়মিত বিএলএ-দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন এবং সরাসরি নেত্রীকে রিপোর্ট করবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “বিজেপিকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়া যাবে না। প্রতিটি ভোটারের অধিকার সুনিশ্চিত করাই আমাদের কাজ।”
রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ:
ভবানীপুর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের কেন্দ্র। এখান থেকেই তিনি তাঁর রাজনৈতিক লড়াইয়ের দিশা ঠিক করেন। তাই ভোটার তালিকায় কারচুপি বা বুথ স্তরের সংগঠন নিয়ে সামান্য ঢিলেমিও বরদাস্ত করতে রাজি নন তিনি। মার্চের শুরুতেই ভোট ঘোষণার সম্ভাবনা থাকায় এই বৈঠককে চূড়ান্ত যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

