AB Live News
ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে ইজ়রায়েলি হানা, রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে ফের যুদ্ধের ঘনঘটা। দীর্ঘ টানাপড়েনের পর ইরানের পরমাণু প্রকল্পকে নিশানা করে সরাসরি হামলা চালাল ইজ়রায়েল। বৃহস্পতিবার সকালে ইজ়রায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) দাবি করেছে, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে তারা নির্দিষ্ট কিছু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলার খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
এই সংঘাতের সূত্রপাত বুধবার রাতের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ইরাক উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় দু’টি তেলের ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ হামলা চালায় ইরান। জানা গিয়েছে, আক্রান্ত জাহাজ দু’টি অন্য দেশের পতাকাবাহী হলেও, তার মধ্যে একটির মালিকানা স্বত্ব রয়েছে একটি মার্কিন সংস্থার হাতে। এই ঘটনার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন নৌবাহিনী সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করে। পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথে ইরানের এই ধরনের ‘জলদস্যুতা’ এবং উস্কানিমূলক আচরণ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
ইরানের পক্ষ থেকে ট্যাঙ্কারে হামলার দায় স্বীকার না করা হলেও, ইজ়রায়েলি বিমান হামলার কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তেহরানের দাবি, তাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানা হয়েছে এবং এর ফল ‘ভয়াবহ’ হবে। অন্যদিকে, ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির স্বপ্নকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে তাঁরা বদ্ধপরিকর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরমাণু কেন্দ্র লক্ষ্য করে এই হামলা পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে দিল। এর ফলে তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যে ছায়াযুদ্ধ এবার সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলো একদিকে যেমন ইরানের হামলার নিন্দা করছে, অন্যদিকে ইজ়রায়েলকেও সংযত থাকার পরামর্শ দিচ্ছে। তবে তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার পর মার্কিন স্বার্থ বিঘ্নিত হওয়ায় বাইডেন প্রশাসন এখন সরাসরি এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে কি না, সেটাই এখন দেখার।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

