AB Live News
ক্যানিংয়ে কার্টুন দেখানোর লোভ দেখিয়ে দুই নাবালিকাকে ধর্ষণ
শিবনাথ দাস : মোবাইল ফোনে কার্টুন দেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে দুই নাবালিকাকে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের এক ন্যাক্কারজনক অভিযোগ উঠল প্রতিবেশী দুই নাবালকের বিরুদ্ধে। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ক্যানিং থানা এলাকার তালদি জনকল্যাণ মোড় সংলগ্ন অঞ্চলে এই নারকীয় ও পাশবিক ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক। খবর পেয়ে ঘটনার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে পুলিশ এবং অভিযুক্ত দুই প্রতিবেশী নাবালককে আটক করেছে।পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল বিকেল আনুমানিক তিনটে থেকে সাড়ে তিনটে নাগাদ নিজেদের বাড়ির সামনে প্রতিদিনের মতোই খেলাধুলো করছিল দশ ও বারো বছর বয়সি দুই নাবালিকা। অভিযোগ, সেই সময় প্রতিবেশী দুই নাবালক তাদের কাছে এগিয়ে আসে। শিশুদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে তারা নিজেদের মোবাইল ফোনে জনপ্রিয় কার্টুন দেখানোর প্রস্তাব দেয় এবং নতুন নতুন কার্টুন ভিডিও দেখার প্রলোভন দেখায়। নিষ্পাপ দুই শিশু সেই মিষ্টি কথার ফাঁদে পা দিয়ে ফেলে। অভিযোগ রয়েছে, সুযোগ বুঝে ওই দুই অভিযুক্ত তাদের ফুসলিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়ির পিছনের এক নির্জন ও ঝোপঝাড়যুক্ত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে কোনও জনমানবের উপস্থিতি না থাকার সুযোগ নিয়ে ওই দুই নাবালিকার উপর জোরপূর্বক পাশবিক যৌন নির্যাতন চালানো হয় এবং তাদের ধর্ষণ করা হয়।অত্যাচারের পর আতঙ্কে কাঁপতে কাঁপতে বাড়ি ফেরে দুই নাবালিকা। তাদের শারীরিক অবস্থা খারাপ দেখে পরিবারের সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে তারা সমস্ত বিষয়টি খুলে বলে। ঘটনার কথা শুনে পরিবার ও স্থানীয়দের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। ক্ষুব্ধ পরিবারের সদস্যরা কালবিলম্ব না করে ক্যানিং থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এবং নারী সুরক্ষার বিষয় জড়িত থাকায় অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ক্যানিং থানার বড় আধিকারিকদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল তদন্তে নামে। পুলিশ তল্লাশি অভিযান চালিয়ে স্থানীয় এলাকা থেকেই অভিযুক্ত দুই নাবালককে আটক করে হেফাজতে নেয়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট ধারা এবং পকসো আইনের ছয় নম্বর ধারায় অত্যন্ত কড়া ধারায় মামলা রুজু করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নির্যাতিতা নাবালিকাদের শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।এই ঘটনায় তালদি জনকল্যাণ মোড় এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাটির কড়া নিন্দা জানিয়ে এক স্থানীয় বিজেপি নেতা বলেন, “এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা। আমাদের সমাজে কোন ধরনের অবক্ষয় নেমে এসেছে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বর্তমান শাসনব্যবস্থায় একজন নারীর প্রতি এমন অন্যায্য ও পৈশাচিক আচরণ কিছুতেই সহ্য করা হবে না। বারুইপুরের ঘটনাও সকলে দেখেছেন, যেখানে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া সুর শোনা গিয়েছে। এই ক্ষেত্রেও যারা যারা দোষী তাদের যাতে চরম ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়, সেই দাবিই আমরা জানাচ্ছি।” পুরো ঘটনায় এলাকায় পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

