AB Live News
অন্ডালে কারা গড়ছিল অস্ত্রের ডেরা? বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার
অন্ডাল থানা এলাকার একটি পরিত্যক্ত আবাসন থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও জীবন্ত কার্তুজ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিল্পাঞ্চলে। রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসটিএফ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অন্ডালের ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের (ইসিএল) একটি পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে অভিযান চালায়। সেখানে দীর্ঘ তল্লাশি চালিয়ে ১৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। কয়লা পাচার এবং বেআইনি অস্ত্র কারবারের আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে এই উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সরাসরি যোগ রয়েছে বলে অনুমান করছেন তদন্তকারীরা। সম্প্রতি ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেফতার হওয়া বেআইনি কয়লা মাফিয়া শামসের হোসেন এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী খাইরুলকে জেরা করেই এই গোপন অস্ত্রভাণ্ডারের সন্ধান মেলে। অভিযুক্তদের সঙ্গে করে নিয়ে এসটিএফের আধিকারিকরা শনিবার গভীর রাত থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত অন্ডালের পরিত্যক্ত ইসিএল কোয়ার্টারে চিরুনি তল্লাশি চালান। এর পরেই উদ্ধার হয় এই বিপুল পরিমাণ ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও মারমুখী কার্তুজ।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া মাফিয়া শামসের ও খাইরুল দীর্ঘদিন ধরে আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল ছাড়াও সংলগ্ন ঝাড়খণ্ড সীমান্ত এলাকায় বেআইনি কয়লা পাচারের মূল কাণ্ডারী ছিল। তবে শুধু কয়লা পাচারই নয়, এই বেআইনি সিন্ডিকেটের আড়ালে অস্ত্র পাচারের এক বিরাট জাল ছড়িয়ে পড়েছিল বলেও জানা যাচ্ছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ দল রাঁচি থেকে শামসেরকে জালে তোলে। তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে একটানা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারী অফিসাররা। জিজ্ঞাসাবাদের সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, বেআইনি কয়লা কারবারের পাশাপাশি নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে ও আন্তঃরাজ্য অপরাধমূলক কাজ চালাতে তারা এই ভারী আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি মজুত করেছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই শনিবার রাতে অভিযুক্তদের সঙ্গে নিয়ে অন্ডালে সরাসরি অভিযান চালানো হল। এই ঘটনায় আর কারা যুক্ত রয়েছে, এই বিশাল পরিমাণ অস্ত্র কোথায় তৈরি হয়েছিল এবং কোথায় সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এদিকে অন্ডালের এই অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। রাজ্যে শাসক দল হিসেবে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি এই অস্ত্র উদ্ধারকে নিজেদের জিরো টলারেন্স নীতি এবং অপরাধ dমনে কঠোর পদক্ষেপের সাফল্য হিসেবে দাবি করেছে। বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশ এখন স্বাধীনভাবে ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে বলেই অপরাধীরা ছাড় পাচ্ছে না এবং পুরোনো সিন্ডিকেট ও দুষ্কৃতীদের সামাজিক ক্ষমতা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। দুষ্কৃতীরা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, তাদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে বলে শাসক দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হল। অপরাধমূলক কার্যকলাপ দমনে রাজ্য পুলিশের এই তাৎপর্যপূর্ণ সাফল্য শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বাস্তব উন্নতি প্রমাণ করে বলে বিজেপি দাবি করেছে।
অন্যদিকে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। বিরোধী তৃণমূল নেতৃত্ব অভিযোগ করেছে যে, পুলিশ কেবল দু-এক জন ছোট চুনোপুঁটিকে ধরে নিজেদের সাফল্য দেখানোর চেষ্টা করছে, অথচ এই বেআইনি কয়লা ও অস্ত্র সিন্ডিকেটের পেছনে থাকা বড় প্রভাবশালী মাথার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে না। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চূড়ান্ত অবনতি ঘটেছে দাবি করে বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং পুরো এলাকা দুষ্কৃতীমুক্ত করতে অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও ব্যাপক তদন্ত পরিচালনা করা দরকার। এই বিপুল পরিমাণ বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল বলে বিরোধী শিবিরের তোপ। অন্ডাল থানা এলাকার সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যেও এই ঘটনার জেরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সম্পূর্ণ ঘটনার মূল শিকড় উন্মোচনে আগামী দিনে আরও বড় মাপের তল্লাশি অভিযান চালানো হতে পারে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

