Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

থানায় কুণাল ঘোষ

0 609,321,783

 লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী অধ্যায়ে বাংলার রাজনীতিতে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির ইতিহাস নতুন নয়, কিন্তু এবার আক্ষরিক অর্থেই এক কদর্য ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। রাজনৈতিক মতাদর্শের লড়াই রাজপথ থেকে নেমে এবার এসে ঠেকল ব্যক্তিগত আক্রমণ ও আইনি লড়াইয়ের দোরগোড়ায়। গত কয়েকদিন ধরেই শহরের রাজনৈতিক বাতাবরণ উত্তপ্ত ছিল বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে। তবে এবার এক চরম অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে খোদ শাসকদলের অন্দরে এবং কলকাতার পুলিশি মহলে। প্রকাশ্য রাস্তায় এক চরম আপত্তিকর আচরণের শিকার হতে হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম শীর্ষ নেতা তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার সকাল থেকেই তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক অলিন্দে।

ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি একটি প্রকাশ্য কর্মসূচিতে, যেখানে কুণাল ঘোষ উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ, সেখানে হঠাৎই এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁর দিকে লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়ে মারে। এই ঘটনার আকস্মিকতায় সেখানে উপস্থিত অন্যান্য নেতা-কর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীরা সাময়িক স্তম্ভিত হয়ে যান। প্রকাশ্য দিবালোকে একজন প্রথম সারির রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ওপর এই ধরণের নোংরা ও আপত্তিকর হামলাকে কোনওভাবেই মেনে নিতে পারেননি দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা। ঘটনাটি ঘটার পরেই চারদিকে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। রাজনৈতিক সৌজন্যের সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করে এই ধরণের নিকৃষ্ট মানের আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে সরব হন কুণাল ঘোষের অনুগামীরা। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে হামলাকারী ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দিলেও গোটা এলাকা জুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এই নজিরবিহীন এবং অপমানজনক ঘটনার পর তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন কুণাল ঘোষ নিজেই। তিনি এই ঘটনাকে নিছক একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা রসিকতা হিসেবে দেখতে নারাজ। বরং এর পেছনে গভীর কোনও চক্রান্ত বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেই তাঁর প্রাথমিক অনুমান। ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি নিজের সামাজিক মাধ্যমের দেওয়ালে অত্যন্ত বিস্ফোরক এবং কড়া ভাষায় একটি বার্তা পোস্ট করেন। সেখানে নিজের তীব্র ক্ষোভ ও মানসিক যন্ত্রণা উগড়ে দিয়ে আক্রমণকারীকে তীব্র ভাষায় ভর্ৎসনা করেন তিনি। এই ধরণের হীন মানসিকতার পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার দাবি তুলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, নোংরা রাজনীতি তিনি কোনওভাবেই বরদাস্ত করবেন না। সামাজিক মাধ্যমের সেই পোস্ট মুহুর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়।

শুধুমাত্র সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেই শান্ত থাকেননি তৃণমূলের এই প্রভাবশালী নেতা। এই ধরণের কদর্য আচরণের বিরুদ্ধে আইনিভাবে শেষ দেখে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। রবিবারই তিনি কলকাতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও হাইপ্রোফাইল থানা হিসেবে পরিচিত কালীঘাট থানায় সশরীরে উপস্থিত হন এবং হামলাকারীর বিরুদ্ধে একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কুণাল ঘোষের এই পদক্ষেপের পর কালীঘাট থানার পুলিশও অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে নড়েচড়ে বসেছে। পুলিশ ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা তথা এফআইআর রুজু করেছে। ঘটনাস্থল এবং তার আশেপাশের এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। হামলাকারীকে চিহ্নিত করতে ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে এবং শহরের বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

এই ঘটনার পর থেকে রাজ্য রাজনীতিতে যেমন নিন্দার ঝড় উঠেছে, তেমনই শাসকদলের অন্দরের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়েও নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। দলের বহু প্রবীণ ও নবীন নেতা এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অন্য দিকে, বিরোধীদের একাংশ এই ঘটনাকে শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল বলে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। তবে কুণাল ঘোষের অনুগামীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই ধরণের নোংরা আক্রমণ করে তাঁর কণ্ঠরোধ করা যাবে না। কালীঘাট থানার দোরগোড়ায় পৌঁছানো এই আইনি লড়াই এবং পুলিশের এই তদন্ত আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে ঠিক কোন নতুন মোড় নিয়ে আসে, এখন সেদিকেই কড়া নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper