AB Live News
জ্বালানি সংকটে দিশেহারা দেশ: দাম বাড়ার প্রবল সংকেত
বিশ্বজুড়ে ঘনিয়ে আসা জ্বালানি সংকটের কালো মেঘ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল ভারতের সাধারণ মানুষের পকেটে। উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ কার্যত স্তব্ধ হওয়ার মুখে, যার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে দেশবাসীকে পেট্রোল ও ডিজেল ব্যবহারে চরম সংযম এবং ‘মিতব্যয়ী’ হওয়ার পরামর্শ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কোভিড-কালীন পরিস্থিতির মতো গভীর সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে তিনি নাগরিকদের বুঝেশুঝে জ্বালানি খরচ করতে অনুরোধ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার পরপরই কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ ব্যাখ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কেন তেলের দাম না বাড়িয়ে সরকারের আর কোনো বিকল্প নেই এবং কেন সাধারণ মানুষকে এই কৃচ্ছ্রসাধন করতে হবে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে চড়া দামে কাঁচামাল বা অপরিশোধিত তেল কিনলেও দেশের বাজারে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার এখনো পুরোনো দামেই তেল বিক্রি করছে। এর ফলে ইন্ডিয়ান অয়েল বা বিপিসিএল-এর মতো রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলো প্রতিদিন গড়ে ১,০০০ কোটি টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। হিসাব বলছে, চলতি ত্রৈমাসিকে এই লোকসানের বোঝা ১,০০,০০০ কোটি টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বর্তমানে তেল কোম্পানিগুলো পেট্রোল প্রতি লিটারে প্রায় ১৮ টাকা এবং ডিজেলে প্রায় ২৫ টাকা লোকসানে বিক্রি করছে। অর্থাৎ, কোম্পানিগুলোর আর্থিক ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে সরকারকে অবিলম্বে পেট্রোলে ১৮ টাকা এবং ডিজেলে ২৫ টাকা দাম বৃদ্ধি করতে হবে, যা সাধারণ মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস তোলার জন্য যথেষ্ট। যদিও মার্চ মাসের শেষে সরকার পেট্রোল ও ডিজেলে প্রতি লিটারে ১০ টাকা করে আবগারি শুল্ক কমিয়েছিল, কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারের উত্তাল পরিস্থিতির সামনে সেই স্বস্তি আজ ম্লান। ওই শুল্ক হ্রাসের ফলে সরকারের প্রতি মাসে ১৪,০০০ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে, অথচ তেল কোম্পানিগুলোর রক্তক্ষরণ তাতে বিন্দুমাত্র থামছে না। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মাও স্বীকার করে নিয়েছেন যে, পশ্চিম এশিয়ার এই ভূ-রাজনৈতিক সংকট কোম্পানিগুলিকে মারাত্মক আর্থিক চাপের মুখে ঠেলে দিয়েছে। শুধু সড়ক পরিবহনের জ্বালানিই নয়, অভ্যন্তরীণ বিমানে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল বা এটিএফ বিক্রি করেও কোম্পানিগুলি ক্রমাগত ক্ষতির শিকার হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই ‘মিতব্যয়ী’ হওয়ার পরামর্শ আসলে এক বড়সড় মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাস বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তেলের দাম নিয়ে বড় কোনো ঘোষণা আসতে পারে বলে নর্থ ব্লকের অলিন্দে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আপাতত বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও ঘরোয়া অর্থনীতি সামাল দিতে নাজেহাল অবস্থা মোদি সরকারের।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

