Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

লক্ষ্মীলাভের হাসি বাগনানের পদ্মচাষিদের মুখে

0 49,806,689

 বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে ক্ষমতার পালাবদল কেবল নবান্নের অলিন্দেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তার সুফল সরাসরি পৌঁছে গিয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতির অন্দরমহলে। শনিবার ব্রিগেডের ঐতিহাসিক ময়দানে রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এক অভাবনীয় বাণিজ্যিক সাফল্যের মুখ দেখলেন হাওড়ার বাগনানের ফুলচাষিরা। ‘জোড়াফুলের’ শাসনের অবসানে বাংলায় এখন ‘পদ্ম’ বরণের ধুম। আর এই রাজনৈতিক আবহে সবথেকে বেশি লাভবান হয়েছেন বাগনানের কয়েক হাজার ফুলচাষি। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কেবল বাগনান থেকেই অন্তত পাঁচ কুইন্টালের বেশি পদ্মফুলের বরাত মিলেছে, যা সাম্প্রতিক কালে এক অনন্য নজির।

​সাধারণত বসন্তের শেষে বা গ্রীষ্মের শুরুতে পদ্মফুলের এমন আকাশছোঁয়া চাহিদা খুব একটা দেখা যায় না। কিন্তু এবারের প্রেক্ষিত সম্পূর্ণ আলাদা। ভারতীয় জনতা পার্টির নির্বাচনী প্রতীক পদ্ম হওয়ায়, এই ফুলটি এখন কেবল পুজোর উপকরণ নয়, বরং রাজনৈতিক আবেগ ও জয়ের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। বাগনানের ঘোড়াঘাটা, ওরফুলি, বাঁকুড়দহ, হেলেদীপ থেকে শুরু করে বাগনান ১ ও ২ নম্বর ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় যে পদ্ম চাষ হয়, তার সিংহভাগই গত দু’দিনে পৌঁছে গিয়েছে কলকাতায়। চাষিদের বক্তব্য, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের রাজকীয় সাজসজ্জা থেকে শুরু করে পাড়ায় পাড়ায় বিজয় উৎসব— সর্বত্রই পদ্মের চাহিদা ছিল তুঙ্গে। বাঁকুড়দহ এলাকার ফুলচাষি পুলক ধাড়া উচ্ছ্বসিত গলায় বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথ উপলক্ষে ফুলের চাহিদা আমরা সামাল দিতে পারছিলাম না। শুধু পদ্ম নয়, গাঁদা ফুলেরও ব্যাপক বরাত ছিল। আমাদের এখান থেকে প্রায় পাঁচ কুইন্টাল গাঁদা ফুল কলকাতায় পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে দামও পেয়েছি মনের মতো।”

​চাহিদা ও জোগানের এই ভারসাম্যে সবথেকে বেশি চমক দিয়েছে ফুলের বাজারদর। সারা বাংলা ফুলচাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক জানিয়েছেন, বছরের এই সময়ে কলকাতার মল্লিকঘাট ফুল বাজারে একটি পদ্ম বড়জোর ১ থেকে ২ টাকায় বিক্রি হয়। কিন্তু শুক্রবার রাত থেকেই সেই ছবি বদলে গিয়েছে। পাইকারি বাজারে প্রতিটি পদ্ম বিক্রি হয়েছে ৮ থেকে ১০ টাকায়, যা শহরতলির খুচরো বাজারে গিয়ে পৌঁছেছে ১২ থেকে ১৫ টাকায়। অর্থাৎ, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দাম বেড়েছে প্রায় সাত থেকে আট গুণ। মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং দেশের ১৬টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই মেগা ইভেন্টই ফুলচাষিদের মুখে অকাল ঈদ বা দীপাবলির হাসি ফুটিয়ে দিয়েছে।

​কেবল শপথগ্রহণই নয়, রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠানও ফুলের এই চাহিদাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বাগনানের ফুলচাষিদের মতে, ভোটের মরসুমে রজনীগন্ধার চাহিদা থাকলেও, শপথের দিনে পদ্মই ছিল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। রাজনৈতিক পরিবর্তনের এই হাওয়ায় বাগনানের গ্রামীণ জনপদে এখন শুধুই লক্ষ্মীলাভের গল্প। যে চাষিরা কদিন আগেও ফসলের সঠিক দাম পাওয়া নিয়ে চিন্তিত ছিলেন, আজ তাঁরাই বলছেন— ‘কমলে বসেই ঘরে এল লক্ষ্মী’। নবান্নে নতুন সরকার বসার দিনে এই বাণিজ্যিক সাফল্য গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল করার ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক বার্তা বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। আপাতত নতুন মন্ত্রিসভার গঠন আর আগামীর উন্নয়নের আশায় বুক বাঁধছেন বাগনানের মেহনতি ফুলচাষিরা।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper