Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

ভোটের মুখে নন্দীগ্রামে ‘প্রলয়’

0 4,209,614

 প্রথম দফার হাইভোল্টেজ নির্বাচনের প্রাক্কালে বড়সড় অস্বস্তিতে পড়ল গেরুয়া শিবির। আগামী বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল উত্তরবঙ্গ-সহ রাজ্যের ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ। আর তার ঠিক কয়েক দিন আগেই তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি তথা শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ নেতা প্রলয় পালের একটি কথিত অশালীন ভিডিও এবং চ্যাট সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই রীতিমতো রাজনৈতিক ভূমিকম্প শুরু হয়েছে নন্দীগ্রামে। একেবারে শেষ মুহূর্তের প্রচারে যখন ব্যস্ত সব পক্ষ, ঠিক সেই সময় এই ভিডিও সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই চাপে পড়ে গিয়েছে বিজেপি। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, অন্যদিকে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে স্থানীয় বুদ্ধিজীবী মহল।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম, তবে সমাজমাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়া ওই ক্লিপিংসে দেখা যাচ্ছে, একটি চ্যাট বক্সে এক মহিলার সঙ্গে চূড়ান্ত আপত্তিকর কথাবার্তা এবং অশালীন ছবি বিনিময় করা হচ্ছে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে বিজেপি নেতা প্রলয় পালের দিকে। ভিডিওতে একদিকে ফোনে কথা বলার দৃশ্য এবং অন্যদিকে চ্যাট বক্সে কুরুচিকর বার্তার আদানপ্রদান দেখে শিউরে উঠছেন সাধারণ মানুষ। যে নন্দীগ্রামের দিকে গোটা রাজ্যের নজর রয়েছে, সেখানে খোদ শুভেন্দু অধিকারীর বিশ্বস্ত অনুগামী হিসেবে পরিচিত নেতার বিরুদ্ধে এমন নৈতিক স্খলনের অভিযোগ ওঠায় তৃণমূল নেতৃত্ব আক্রমণ শানাতে দেরি করেনি।

রাজ্য তৃণমূলের মুখপাত্র শান্তনু সেন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরাসরি বিজেপিকে ‘মহিলা বিদ্বেষী’ তকমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিজেপি যে আদতে নারী শক্তির অবমাননা করে, তা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। এবার নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতা তথা তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি প্রলয় পাল, যাঁকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে ছবিতে দেখা যায় এবং যিনি শুভেন্দু অধিকারীর ছায়াসঙ্গী, তাঁর এমন ন্যক্কারজনক ভিডিও সামনে এল। এটা কেবল একজন ব্যক্তির বিষয় নয়, এটা বিজেপির সংস্কৃতির পরিচয়। যাঁরা আড়ালে মহিলাদের সঙ্গে এমন অশালীন আচরণ করেন, তাঁদের বিধানসভা নির্বাচনে মানুষ যোগ্য জবাব দিয়ে দেবে। বাংলার মায়েরা এই অপমান ভুলবেন না।”

তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি একদিকে যখন ‘বেটি বাঁচাও’ এর স্লোগান দেয়, তখন তাদের অন্দরমহলে নেতাদের চরিত্র এমন কলুষিত থাকে। শান্তনু সেন আরও দাবি করেন, নন্দীগ্রামের মতো পবিত্র মাটিতে এমন ঘটনার প্রকাশ পাওয়া মানে সাধারণ মানুষের বিশ্বাসে কুঠারাঘাত করা। এই ইস্যুতে স্থানীয় স্তরেও ক্ষোভ ছড়িয়েছে। নন্দীগ্রামের এক প্রবীণ বুদ্ধিজীবীর মতে, ভোটের ময়দানে লড়াই হবে রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে, কিন্তু এমন কুরুচিকর বিষয় যদি সত্যি হয়, তবে তা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।

অন্যদিকে, নিজেকে নির্দোষ দাবি করে পালটা মুখ খুলেছেন বিজেপি নেতা প্রলয় পাল। তাঁর দাবি, এটি সম্পূর্ণভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি সাজানো চক্রান্ত। ভোটের মুখে পরাজয় নিশ্চিত জেনে শাসক দল ‘ডিপ ফেক’ বা প্রযুক্তির কারসাজি করে তাঁর সম্মানহানি করার চেষ্টা করছে। প্রলয় পালের কথায়, “আমায় ব্যক্তিগতভাবে বদনাম করার চেষ্টা হচ্ছে। আসলে বিরোধীরা ভয় পেয়েছে, তাই কুৎসা ছড়াচ্ছে। এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি। আমি আইনি পথে এর মোকাবিলা করব।” জেলা বিজেপি নেতৃত্বও দলীয় নেতার পাশে দাঁড়িয়ে জানিয়েছে, হারের ভয়ে তৃণমূল এখন চারিত্রিক হননের রাজনীতি শুরু করেছে।

তবে অভিযোগ আর পালটা অভিযোগের লড়াই যাই হোক না কেন, ভোটের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে এই ভাইরাল ভিডিও যে সাধারণ ভোটারদের আলোচনায় বড় জায়গা করে নিয়েছে, তা স্পষ্ট। বিশেষ করে নারী ভোটারদের প্রভাবিত করতে এই ইস্যুকে তৃণমূল কংগ্রেস মাস্টারস্ট্রোক হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নন্দীগ্রামের মতো স্পর্শকাতর কেন্দ্রে এই ঘটনা বিজেপি প্রার্থীর ভাবমূর্তিতে কোনও প্রভাব ফেলে কি না, সেটাই এখন দেখার। আপাতত এক ভিডিওর ‘প্রলয়’ ঝড়ে তপ্ত হয়ে উঠেছে পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনীতির আঙিনা।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper