AB Live News
মন খারাপ কি মস্তিষ্কের জরুরি সংকেত? জানুন বিষণ্ণতা কাটানোর বিজ্ঞানসম্মত উপায়
সকালে ঘুম ভাঙার পর কোনও কারণ ছাড়াই মনটা ভার হয়ে থাকা, প্রিয় চায়ের কাপে চুমুক দিয়েও তৃপ্তি না পাওয়া কিংবা কাজে অনীহা—এই অনুভূতিগুলো আমাদের অতি পরিচিত। আধুনিক ব্যস্ত জীবনে প্রায় প্রত্যেক মানুষই কোনও না কোনও সময় এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। কিন্তু আমরা কি জানি, আমাদের মস্তিষ্ক আসলে এই মন খারাপের মাধ্যমে আমাদের কিছু বোঝাতে চায়? সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য।
মস্তিষ্কের রসায়ন ও মন খারাপের বিজ্ঞান
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, যখন আমাদের মন খারাপ থাকে, তখন মস্তিষ্কে ‘কর্টিসল’ নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এই হরমোনটি আমাদের যৌক্তিক চিন্তাভাবনার ক্ষমতাকে সাময়িকভাবে সংকুচিত করে দেয়। ফলে ওই অবস্থায় আমরা যা ভাবি বা যে সিদ্ধান্ত নিই, তার বেশিরভাগই হয় নেতিবাচক বা ভুল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মন খারাপ মানেই সব শেষ নয়; বরং এটি মস্তিষ্কের একটি ‘সাহায্যের আবেদন’ বা সংকেত মাত্র।
আমরা কোথায় ভুল করি?
মন খারাপ হলে সাধারণত আমরা তিনটি কাজ করি:
১. দীর্ঘক্ষণ বিছানায় শুয়ে থাকা।
২. টানা সোশ্যাল মিডিয়া বা রিলস স্ক্রল করা।
৩. নেতিবাচক মানসিকতার মানুষের সাথে কথা বলা।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, স্মার্টফোনের স্ক্রল আমাদের মস্তিষ্ককে আরও ক্লান্ত করে দেয়। ডিজিটাল পর্দার নীল আলো এবং অন্যের জীবনের সাজানো মুহূর্তগুলো আমাদের অবচেতন মনে হীনম্মন্যতা তৈরি করে, যাকে বলা হয় ‘ডিজিটাল ডিপ্রেশন’।
মুক্তির অব্যর্থ দাওয়াই: দশ মিনিটের হাঁটা
বিজ্ঞান বলছে, মন খারাপের মেঘ কাটাতে সবচেয়ে কার্যকর ওষুধ হল শরীরচর্চা, তবে তা খুব কঠিন কিছু নয়। মাত্র ১০ মিনিটের দ্রুত হাঁটা আমাদের মস্তিষ্কে ‘এন্ডোরফিন’ নামক হরমোন নিঃসরণ করে। এটি প্রাকৃতিকভাবে আমাদের মেজাজ বা মুড উন্নত করতে সাহায্য করে। তাই মন খারাপ হলেই ফোন রেখে জুতো পরে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। কোনও গান বা পডকাস্ট ছাড়াই প্রকৃতির মাঝে এই ১০ মিনিটের হাঁটা আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে।
‘এক্সপ্রেসিভ রাইটিং’ বা মনের ভার নামানো
আরেকটি অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি হল এক্সপ্রেসিভ রাইটিং। যখন মনের ভেতর অনেক কথা জমে থাকে, তখন একটি কাগজে বা ফোনের নোটপ্যাডে যা মনে আসছে সব লিখে ফেলুন। এখানে ভাষা বা ব্যাকরণ কোনও বিষয় নয়, উদ্দেশ্য হল মস্তিষ্কের জটগুলোকে কাগজের পাতায় নামিয়ে আনা। গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ১৫ মিনিটের লেখালেখি মানসিক চাপ অনেকটাই কমিয়ে দেয়। কাজ শেষ হলে আপনি লেখাটি ছিঁড়ে বা মুছেও ফেলতে পারেন।
মন খারাপ কোনও স্থায়ী রোগ নয়, এটি একটি সাময়িক মানসিক অবস্থা। তাই নিজেকে দোষারোপ না করে শরীর ও মনকে কিছুটা সময় দিন। ফোন নয়, বরং মাটির সংস্পর্শ আর কলমের আঁচড়ই হতে পারে আপনার বিষণ্ণতা জয়ের আসল হাতিয়ার।
আপনার মন খারাপের দিনে আপনি নিজেকে কীভাবে সামলান? আপনার ছোট একটি টিপস হয়তো অন্য কারো অন্ধকার দিনে আশার আলো দেখাতে পারে। আপনার মন্তব্য জানান।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

