AB Live News
শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত নন্দীগ্রামেরই ভোটার থাকব’, নিজের গড়ে ভোট দিয়ে বার্তা শুভেন্দুর
শিবনাথ দাস : উপনির্বাচন ঘিরে মঙ্গলবার সকাল থেকেই চড়েছে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের রাজনৈতিক উত্তাপ। তবে সব নজর ছিল মেদিনীপুরের রাজনৈতিক ভরকেন্দ্র নন্দীগ্রামের দিকেই। এদিন সকালে নিজের চেনা জমি নন্দীগ্রামের নন্দনায়কবাড় বুথে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভোটদানের পর এলাকার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও আত্মিক যোগসূত্রের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু স্পষ্ট ঘোষণা করেন, “জীবনের শেষ দিন, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমি নন্দীগ্রামের ভোটার হয়েই থাকব।”পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১১টা নাগাদ শান্তিকুঞ্জ থেকে নন্দীগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন মুখ্যমন্ত্রী। তবে বুথের কাছাকাছি পৌঁছে বড় গাড়ির কনভয় ছেড়ে এক সাধারণ নাগরিকের মতোই টোটোয় চেপে ভোটকেন্দ্রে হাজির হন তিনি। বুথে গিয়ে নিজের ভোট দেওয়ার পর বাইরে এসে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন তিনি। নন্দীগ্রামের ভোট পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, গোটা কেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ ভোট দিচ্ছেন। সাধারণত উপনির্বাচনে ভোটদানের হার কিছুটা কম দেখা গেলেও নন্দীগ্রামে প্রায় ৮৫ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এমনকি এই হার ৯০ শতাংশে নিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য বলে জানান তিনি।একই সঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধির প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, সাংবিধানিক পদমর্যাদা বা সরকারি নিরাপত্তা থাকলেও নিয়ম মেনে চলা প্রত্যেকের কর্তব্য। ভোটদানের পর বুথ চত্বরের আশপাশে জমায়েত করা কিংবা কোনও ধরনের রাজনৈতিক প্রচার চালানো যে অনুচিত, সে কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি।নন্দীগ্রামের সঙ্গে নিজের অটুট সম্পর্কের কথা তুলে ধরে শুভেন্দুর আশ্বাস, প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে আগের মতো হয়তো প্রতিদিন আসা সম্ভব হবে না, তবে এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর আত্মিক বন্ধন চিরকাল একই রকম থাকবে। আসন্ন জগদ্ধাত্রী পুজোতেও তিনি নন্দীগ্রামে উপস্থিত থাকবেন বলে জানান। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে তাঁর জয়ের মার্জিনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আশাপ্রকাশ করেন, এবারের নির্বাচনে সেই রেকর্ডও ছাপিয়ে যাবেন দলীয় প্রার্থী।অন্যদিকে, রেজিনগরে উপনির্বাচনের দিন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীরের গ্রেপ্তার হওয়া প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ভোটকেন্দ্রের নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে বিধিভঙ্গ ও অবাঞ্ছিত কার্যকলাপের সুনির্দিষ্ট অভিযোগেই প্রশাসন আইনানুগ পদক্ষেপ করেছে। নির্বাচনী আইন সবার জন্যই সমান, এ কথাই মনে করিয়ে দেন তিনি। সব মিলিয়ে নিজের গড়ে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর দৃঢ় বার্তা নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক সমীকরণে কর্মীদের নতুন করে মনোবল জোগাল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

