AB Live News
বাংলাদেশ সীমান্তে সোনার কারবারে বড় ধাক্কা, উদ্ধার ১২ কেজি বিদেশি সোনা
শ্রীতমা ব্যানার্জী :বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে বিদেশি সোনা পাচারের চেষ্টায় ফের বড়সড় সাফল্য পেল রাজস্ব গোয়েন্দা দফতর ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী। পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের বিভিন্ন এলাকায় পরপর অভিযান চালিয়ে প্রায় ১২ কেজি বিদেশি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সোনার মোট আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৭ কোটি টাকা। সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া সোনার পাশাপাশি একটি ট্রেনের যাত্রীর কাছ থেকেও মিলেছে বিপুল পরিমাণ সোনা। ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ১৬১ নম্বর ব্যাটালিয়ন। গোঁগ্রা সীমান্ত চৌকির অধীন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সড়কের কাছে প্রায় ৩ কেজি ১৫০ গ্রাম ওজনের ২৭টি বিদেশি সোনার টুকরো উদ্ধার করা হয়। সোনাগুলি সেখানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল বলে জানা গিয়েছে। পরে রাজস্ব গোয়েন্দা দফতর ঘটনাস্থলে গিয়ে সেগুলি বাজেয়াপ্ত করে।এর পর ২১ সেপ্টেম্বর মহাখোলা সীমান্ত চৌকির এলাকায় আরও একটি অভিযান চালানো হয়। হাতখোলা গ্রামের একটি হাতপাম্পের কাছে, সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার আগে মাটির আড়ালে লুকিয়ে রাখা ছিল ২৪ ক্যারেটের ১০টি বিদেশি সোনার টুকরো। মোট ওজন প্রায় ১ কেজি ১৬০ গ্রাম। সীমান্তরক্ষী বাহিনী সোনা উদ্ধারের পর রাজস্ব গোয়েন্দা দফতর তা নিজেদের হেফাজতে নিয়ে শুল্ক আইনের নির্দিষ্ট ধারায় বাজেয়াপ্ত করে। এর আগেও ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর পাথরঘাটা সীমান্ত চৌকি এলাকায় বড়সড় সোনা উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছিল। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল বিদেশি সোনার ৪৮টি বার। সেগুলির মোট ওজন ছিল প্রায় ৫ কেজি ৯০০ গ্রাম। সেই সোনাও পরে রাজস্ব গোয়েন্দা দফতর বাজেয়াপ্ত করে।অন্যদিকে, বিহারের পাটনায় একটি ট্রেনের যাত্রীর কাছ থেকেও উদ্ধার হয়েছে বিদেশি সোনা। রাজস্ব গোয়েন্দা দফতরের আধিকারিকেরা ওই যাত্রীর কাছ থেকে ১৫টি সোনার বার এবং ছোট আকারের চারটি সোনার টুকরো উদ্ধার করেন। সব মিলিয়ে সোনার ওজন প্রায় ১ কেজি ৭১০ গ্রাম। তদন্তকারীদের নজর এড়াতে সোনা অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। দুই পায়ে পরা কাপড়ের হাঁটুর আবরণের ভিতরে সেগুলি গোপন করা হয়েছিল।তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে, ওই সোনা বাংলাদেশ সীমান্ত হয়ে ভারতে ঢুকেছিল। ঘটনায় ওই যাত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও কারা রয়েছে, কোথা থেকে সোনা এসেছিল এবং কোথায় তা পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। পরপর এই অভিযানে স্পষ্ট, বাংলাদেশ সীমান্তকে ব্যবহার করে বিদেশি সোনা ভারতে ঢোকানোর চেষ্টা এখনও অব্যাহত। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে রাজস্ব গোয়েন্দা দফতর নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান চালাচ্ছে। উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ সোনা এবং এক ব্যক্তির গ্রেফতারি এই পাচারচক্রের বিরুদ্ধে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

