AB Live News
সাগরে নিম্নচাপ, ফের বৃষ্টির মেঘ দক্ষিণবঙ্গের আকাশে
শ্রীতমা ব্যানার্জী :বর্ষার বিদায়বেলার আকাশে ফের চোখ রাঙাচ্ছে বঙ্গোপসাগরের একটি নিম্নচাপ। উত্তর আন্দামান সাগরের উপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি ক্রমশ পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে বঙ্গোপসাগরের দিকে শক্তি বাড়াতে পারে। আগামী কয়েক দিন তাই আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতির উপর কড়া নজর রাখছেন আবহবিদরা।আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, উত্তর আন্দামান সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্ত ইতিমধ্যেই নিম্নচাপের রূপ নিয়েছে। সেটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে প্রথমে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ডিপ্রেশনে এবং পরবর্তী সময়ে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর সিস্টেমটির অভিমুখ দক্ষিণ ওড়িশা এবং উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এখনই কি ঘূর্ণিঝড়?
এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশি ঘুরছে। তবে আবহাওয়া দফতর এখনও কোনও ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা জারি করেনি। নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ের চরিত্র পাবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সমুদ্রের তাপমাত্রা, বাতাসের উল্লম্ব প্রবাহ-সহ একাধিক আবহাওয়াগত পরিস্থিতি আগামী কয়েক দিনে সিস্টেমটির শক্তি বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলবে। অর্থাৎ, আপাতত পরিস্থিতিকে ‘ঘূর্ণিঝড় আসছে’ বলে চূড়ান্ত করে দেখার জায়গা নেই। বরং নিম্নচাপের গতিপথ ও শক্তি কী ভাবে বদলায়, তার উপরই নির্ভর করছে পরবর্তী পূর্বাভাস।
বাংলায় কী প্রভাব পড়তে পারে?
নিম্নচাপের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে পারে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকে উপকূলবর্তী জেলা এবং দক্ষিণবঙ্গের কিছু এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। কলকাতায়ও কয়েক দিন বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কলকাতাকে এই মুহূর্তে ভারী বৃষ্টির মূল কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে বৃষ্টির প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে। উপকূলের দিকে দমকা হাওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।কলকাতার ক্ষেত্রেও আকাশ মূলত মেঘলা থাকার পাশাপাশি বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আইএমডির কলকাতা পূর্বাভাসে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা এবং পরবর্তী কয়েক দিন বজ্রঝড় ও দমকা হাওয়ার উল্লেখ রয়েছে।
২৩ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর নজর দক্ষিণবঙ্গে
আবহাওয়া দফতরের সতর্কতায় ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে দক্ষিণবঙ্গে পরিস্থিতি আরও সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। ২৪ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের একাধিক এলাকায় ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।তবে জেলার ভিত্তিতে বৃষ্টির তীব্রতা এক রকম হবে না। নিম্নচাপটি ঠিক কোন পথে এগোয় এবং শেষ পর্যন্ত কতটা শক্তিশালী হয়, তার উপর নির্ভর করবে কোথায় কতটা বৃষ্টি হবে।
সমুদ্রের পরিস্থিতিতেও নজর
বঙ্গোপসাগরের উপর কোনও আবহাওয়া ব্যবস্থা শক্তিশালী হওয়ার ক্ষেত্রে সমুদ্রের উষ্ণতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। আবার বাতাসের উল্লম্ব গতির পার্থক্য বেশি থাকলে একটি সিস্টেমের শক্তি বৃদ্ধিতে বাধা তৈরি হতে পারে। ফলে নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি আরও শক্তিশালী হবে—তা নির্ভর করছে একাধিক প্রাকৃতিক পরিস্থিতির উপর। এই কারণেই আগামী কয়েক দিনকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন আবহবিদরা। আপাতত সাধারণ মানুষের জন্য মূল বার্তা হল—ঘূর্ণিঝড়ের কোনও সরকারি সতর্কতা এখনও নেই, কিন্তু নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। বিশেষ করে উপকূলবর্তী জেলা এবং দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দাদের আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া দফতরের আপডেটের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

