AB Live News
দরজা ভিতর থেকে বন্ধ, পিটিএসের শৌচাগারে কমান্ডোর মৃত্যু
শ্রীতমা ব্যানার্জী : সকালটা অন্য দিনের মতোই শুরু হয়েছিল কলকাতা পুলিশের পুলিশ ট্রেনিং স্কুলে। কিন্তু শনিবার সকালেই আচমকা বদলে গেল ছবিটা। কমান্ডো ব্যারাকের একটি শৌচাগারের দরজা বেশ কিছুক্ষণ ধরে ভিতর থেকে বন্ধ। বারবার ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া নেই। সন্দেহ বাড়তেই সহকর্মীরা দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন। আর সেখানেই মিলল এক পুলিশকর্মীর ঝুলন্ত দেহ। মৃতের নাম দীপক তামাং (৪৯)। তিনি কালিম্পং জেলার সাত মাইল এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং বেশ কয়েক বছর ধরে কলকাতা পুলিশের কমান্ডো বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। সহকর্মীদের কাছে তিনি দক্ষ ও অভিজ্ঞ পুলিশকর্মী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার কলকাতার পুলিশ ট্রেনিং স্কুলের কমান্ডো ব্যারাকের শৌচাগারে ঘটনাটি ঘটে। কিছুক্ষণ ধরে শৌচাগারের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ থাকায় সহকর্মীদের সন্দেহ হয়। তাঁরা একাধিক বার দরজায় ডাকাডাকি করেন। কিন্তু ভিতর থেকে কোনও উত্তর না আসায় শেষ পর্যন্ত দরজা ভেঙে ফেলা হয়।ভিতরে ঢুকে দীপককে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান সহকর্মীরা। দ্রুত তাঁকে নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের হাতে এমন কিছু তথ্য এসেছে, যা আত্মহত্যার সম্ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শরীরে ফাঁসের দাগও পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই মৃত্যু, কিংবা এর নেপথ্যে অন্য কোনও পরিস্থিতি ছিল কি না—তা এখনও নিশ্চিত নয়। পুলিশ সমস্ত সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে বলে জানানো হয়েছে।ঘটনার খবর পৌঁছেছে কালিম্পংয়ে দীপকের পরিবারের কাছেও। কর্মসূত্রে কলকাতায় থাকা এক পুলিশকর্মীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।দীর্ঘদিন পুলিশের কমান্ডো বাহিনীতে কাজ করা দীপকের পরিচিতির জায়গাটিও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে। তাঁর সাম্প্রতিক কর্মজীবন, ব্যক্তিগত পরিস্থিতি এবং মৃত্যুর আগের সময়ের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।পুলিশ জানিয়েছে, আপাতত ঘটনাটি অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও লিখিত অভিযোগ বা এফআইআর দায়ের হয়নি। তদন্তের অগ্রগতি এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে। একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের ব্যারাকে, সহকর্মীদের চোখের সামনেই প্রতিদিনের দায়িত্ব পালন করা এক অভিজ্ঞ পুলিশকর্মীর এ ভাবে চলে যাওয়া তাই শুধু একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা নয়—তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি পরিবারের আকস্মিক শোক এবং বহু বছরের সহকর্মী-সম্পর্কের স্মৃতি। তবে মৃত্যুর নেপথ্যের কারণ নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো না-গিয়ে তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে পুলিশ।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

