AB Live News
নন্দীগ্রামে আবেগের লড়াই, বিজেপির প্রার্থী হাসিরানী রথ
শ্রীতমা ব্যানার্জী : নন্দীগ্রাম মানেই বাংলার রাজনীতিতে আলাদা এক আবেগ। জমি আন্দোলনের স্মৃতি থেকে শুরু করে ২০২১-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচন—বারবার রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে এই বিধানসভা কেন্দ্র। এবার ফের সেই নন্দীগ্রামেই উপনির্বাচন। আর প্রার্থী বাছাইয়ে আবেগ ও রাজনৈতিক সমীকরণ—দুই দিককেই গুরুত্ব দিল বিজেপি। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে হাসিরানী রথের। তিনি প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা। চন্দ্রনাথ ছিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী তথা আপ্ত সহায়ক। নির্বাচনের আগে তাঁর প্রার্থী হওয়া ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা।চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যুর ঘটনা এখনও নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক স্মৃতিতে তাজা। ভোটের আবহে সেই ঘটনাকে সামনে রেখে হাসিরানী রথকে প্রার্থী করা বিজেপির কাছে নিছক সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয় বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, এই প্রার্থী নির্বাচনের মধ্যে যেমন রয়েছে সহানুভূতির জায়গা, তেমনই রয়েছে ন্যায়বিচারের দাবিকে রাজনৈতিকভাবে সামনে আনার কৌশল।তবে রাজনীতির ময়দানে আবেগ একা ভোটে জয় এনে দেয় না। নন্দীগ্রামের মাটিতে সংগঠন, স্থানীয় সমীকরণ এবং ভোটারদের মনোভাব—সবকিছুরই পরীক্ষা হবে এবার। কারণ এই আসনটি এমনিতেই রাজ্য রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।২০২১ সালে নন্দীগ্রাম কার্যত পরিণত হয়েছিল গোটা বাংলার নজরের কেন্দ্রে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর সরাসরি লড়াইয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল কেন্দ্রটি। শেষ পর্যন্ত অল্প ব্যবধানে জয় পান শুভেন্দু অধিকারী। সেই নন্দীগ্রামেই পরবর্তী সময়ে ফের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।এবার তাই লড়াই শুধু একজন প্রার্থীর সঙ্গে আরেকজন প্রার্থীর নয়। নন্দীগ্রামের মানুষ কোন বার্তা দিতে চান, সেটাই বড় প্রশ্ন। একদিকে বিজেপি তুলে ধরছে সংগঠন, পুরনো রাজনৈতিক লড়াই এবং চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যুর প্রসঙ্গ। অন্যদিকে তৃণমূলও মাটি ধরে রাখতে মরিয়া। পাশাপাশি বাম ও কংগ্রেসের প্রার্থীরাও ভোটের অঙ্কে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে চাইছেন।সব মিলিয়ে দুর্গাপুজোর আগে নন্দীগ্রামে ফের জমে উঠতে চলেছে রাজনৈতিক লড়াই। একদিকে পুরনো দ্বন্দ্বের স্মৃতি, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের প্রত্যাশা—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে হাসিরানী রথের সামনে এখন বড় পরীক্ষা। চন্দ্রনাথের মৃত্যুর স্মৃতি কি ভোটের বাক্সে প্রভাব ফেলবে? নাকি স্থানীয় উন্নয়ন, সংগঠন এবং প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতাই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে ফলাফল? উত্তর মিলবে উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার পর।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

