AB Live News
পাতে খাবার, নাকি পশুখাদ্য? খাদ্য দফতরের হানায় হোটেলের রান্নাঘরে ভয়াবহ ছবি!
শ্রীতমা ব্যানার্জী : বাইরে ঝকঝকে হোটেল, ভিতরে রান্নাঘরের এমন ছবি যে দেখলে খাবার মুখে তোলার আগে দু’বার ভাবতে হবে! রাজ্যজুড়ে খাদ্য দফতরের অভিযানে একের পর এক হোটেল-রেস্তোরাঁয় উঠে আসছে খাবারের মান ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে গুরুতর অভিযোগ। এবার সেই তালিকায় নাম উঠল ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ির একটি হোটেলের।অভিযোগ, বেলপাহাড়ির হালদার হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁর রান্নাঘরে উদ্ধার হয়েছে গবাদি পশুর খাবার। সেই খাবার মানুষের রান্নায় ব্যবহার করা হচ্ছিল কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে খাদ্য দফতর। আধিকারিকদের সামনে অবশ্য এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনও উত্তর দিতে পারেননি হোটেল কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি এতটাই অস্বাস্থ্যকর ছিল যে হোটেলটির ফুড লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্য দফতরের আধিকারিক। শুধু পশুখাদ্য উদ্ধারের অভিযোগ নয়, রান্নাঘরের পরিবেশ নিয়েও উঠেছে বিস্তর প্রশ্ন। অভিযানে দেখা যায়, রান্নাঘরে ময়লা-আবর্জনা, মাছি-পোকামাকড়ের উপস্থিতি এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। এমনকি রান্নাঘরের মধ্যেই মুরগি পালন করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ।বেলপাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্র। ফলে প্রতিদিনই বহু পর্যটক সেখানে আসেন। সেই পর্যটনকেন্দ্রের একটি খাবারের দোকানের রান্নাঘরেই যদি এমন ছবি ধরা পড়ে, তা হলে পর্যটকদের খাবারের নিরাপত্তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। তবে এখানেই শেষ নয়। জলপাইগুড়ির একটি হোটেলের ফ্রিজ থেকে খাদ্য দফতরের আধিকারিকরা উদ্ধার করেছেন বাসি, পচা এবং দুর্গন্ধযুক্ত ভাত, মাছ ও মাংস। আধিকারিকদের দাবি, কয়েক দিন ধরে পড়ে থাকা খাবারে ছত্রাকও দেখা গিয়েছিল। সেখানে প্রায় ৩০-৪০ জনের খাবার মজুত ছিল বলে জানানো হয়েছে। ধূপগুড়ির মিষ্টির দোকান থেকে শুরু করে নন্দীগ্রামের চানাচুর কারখানা, পিংলার দোকান—বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে খাদ্য দফতর স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন ও মেয়াদ-উত্তীর্ণ খাবারের অভিযোগ পেয়েছে। পিংলায় দু’টি দোকানকে ১৪ দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। একদিকে পর্যটন মরসুম, অন্যদিকে বাইরে খেতে যাওয়ার প্রবণতা—এই পরিস্থিতিতে খাদ্যের গুণমান নিয়ে এমন অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। স্বাদের লোভে রেস্তোরাঁয় গিয়ে পাতে কী উঠছে, এবার সেই প্রশ্নই আরও জোরালো।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

