AB Live News
চানাচুর কারখানায় হানা, আধিকারিককে ‘চোখ রাঙানি’! তারকেশ্বরে তুঙ্গে উত্তেজনা
শ্রীতমা ব্যানার্জী :: তারকেশ্বরের মুক্তারপুর। বাইরে থেকে আর পাঁচটা কারখানার মতোই। ভিতরে তৈরি হয় মানুষের রসনার পরিচিত সঙ্গী—চানাচুর। কিন্তু সেই খাবার কতটা নিরাপদ, তৈরির পরিবেশই বা কতটা স্বাস্থ্যসম্মত, তা খতিয়ে দেখতে গিয়ে রবিবার কার্যত অন্য অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হল খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকদের। অভিযোগ, কারখানায় ঢুকতেই আধিকারিকদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন মালিক। শুধু তর্কেই থেমে না থেকে আধিকারিকদের ধমক-চমক দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। সরকারি খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকদের অভিযানেই যদি বাধা আসে, তাহলে সাধারণ মানুষের পাতে পৌঁছনো খাবারের নিরাপত্তা কোথায়—সেই প্রশ্নই এখন সামনে। রবিবার দুপুরে তারকেশ্বরের মুক্তারপুর এলাকার ওই চানাচুর কারখানায় হানা দেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। উদ্দেশ্য ছিল কারখানার ভিতরে খাবার তৈরির প্রক্রিয়া এবং খাদ্যসুরক্ষা বিধি খতিয়ে দেখা। কিন্তু অভিযোগ, আধিকারিকরা ভিতরে ঢোকার পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কারখানার মালিক তাঁদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং অভিযানে বাধা দেন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় তারকেশ্বর থানার পুলিশ। খবর পেয়ে সেখানে যান স্থানীয় বিধায়ক সন্তু পানও। বিধায়কের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই কারখানার মালিক নাকি প্রশ্ন তোলেন—‘মুখ্যমন্ত্রীই সব নাকি’, এবং আধিকারিকদের কারখানায় ঢুকতে বাধা দেন। সরকারি আধিকারিকদের কাজে বাধা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কারখানার মালিক।খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে যখন রাজ্যজুড়ে চলছে কড়া নজরদারি, তখন একটি চানাচুর কারখানায় সরকারি আধিকারিকদের অভিযান ঘিরে এমন পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছে। শেষ পর্যন্ত খাবারের গুণমান যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদেরই যদি বাধার মুখে পড়তে হয়, তবে সাধারণ মানুষের পাতে পৌঁছনো খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে? খাদ্য সুরক্ষা দফতর জানিয়েছে, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন নজর, তদন্তে কী উঠে আসে এবং কারখানাটির বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

