AB Live News
বৃদ্ধাশ্রমেই শেষ নিঃশ্বাস, বাবার চিতায় পৌঁছাল না তিন মেয়ে
রাজনন্দিনী ঘোষ : জীবনের সবটুকু দিয়ে তিন মেয়েকে মানুষ করেছিলেন বাবা। উচ্চশিক্ষা দিয়ে প্রতিষ্ঠিতও করেছিলেন তাঁদের। কিন্তু সেই বাবার শেষ বিদায়ে কেউই উপস্থিত থাকতে পারলেন না। হরিয়ানার সোনিপতের একটি বৃদ্ধাশ্রমে মৃত্যুর পর বৃদ্ধের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় আশ্রম কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে। তিন মেয়ে নেপাল, উত্তরপ্রদেশ ও মুম্বই থেকে ভিডিও কলে শেষকৃত্য দেখেন। ঘটনাটি ঘিরে সমাজে প্রবল আলোচনা শুরু হয়েছে।
মৃতের নাম শিবচরণ রামরতন গুপ্ত। তিনি মূলত মুম্বইয়ের বাসিন্দা এবং একসময় বস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রায় দু’বছর আগে স্ত্রী মীনার সঙ্গে সোনিপতের ওই বৃদ্ধাশ্রমে থাকতে শুরু করেন। কিছুদিন আগে তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর বৃদ্ধাশ্রমেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শিবচরণ।
বৃদ্ধাশ্রমের প্রশাসক আনন্দ কুমার জানান, মৃত্যুর প্রায় ২০ দিন আগেই শিবচরণের শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা তাঁর তিন মেয়েকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা কেউই বাবাকে দেখতে আসেননি। মৃত্যুর পরও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সোনিপতে এসে শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। তবে বিভিন্ন ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তাঁরা আসতে পারবেন না বলে জানান।
শেষ পর্যন্ত ভিডিও কলের মাধ্যমেই বাবার শেষযাত্রার সাক্ষী থাকেন তিন মেয়ে। তাঁদের মধ্যে নেপালে শিক্ষকতা করা বড় মেয়ে অনিতা অনলাইনে ৫,১০০ টাকা পাঠিয়ে বাবার সৎকার যথাযথভাবে সম্পন্ন করার অনুরোধ জানান। পরে শেষকৃত্যের ভিডিওও বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষের কাছে চান তাঁরা।
জানা গিয়েছে, শিবচরণ গুপ্ত তাঁর তিন মেয়ের পড়াশোনা ও প্রতিষ্ঠার জন্য সারাজীবন পরিশ্রম করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন বর্তমানে শিক্ষকতা পেশায় রয়েছেন। তিনজনই বিবাহিত এবং নিজ নিজ পরিবার নিয়ে থাকেন।
প্রথমে পরিবারের পক্ষ থেকে অস্থি সংরক্ষণের অনুরোধ করা হলেও পরে তাঁরা জানান, সোনিপতে আসা সম্ভব নয়। তাই বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষকেই গঙ্গায় অস্থি বিসর্জনের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ঘটনার আরেকটি মানবিক দিক হল, মৃত্যুর পর শিবচরণ গুপ্তের চোখ দান করা হয়। তাঁর ইচ্ছা ও পরিবারের সম্মতিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার ফলে অন্য কারও দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনতে তাঁর চক্ষুদান সহায়ক হবে।
এই ঘটনায় বৃদ্ধদের একাকীত্ব, পারিবারিক সম্পর্কের পরিবর্তন এবং আধুনিক জীবনের ব্যস্ততার মধ্যে মানবিক দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

