AB Live News
“প্রকৃতির রোষে নয় স্বপ্নভঙ্গ— ফসলের পাশে সুরক্ষার ঢাল প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা”
আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, বন্যা কিংবা খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে প্রতি বছরই দেশের অসংখ্য কৃষককে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। কৃষকদের এই সংকট থেকে সুরক্ষা দিতে কেন্দ্র সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা (PMFBY) আজ কৃষকদের কাছে এক বড় ভরসার নাম হয়ে উঠেছে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক থেকে শুরু করে বড় চাষিরাও ফসলের ক্ষতির বিরুদ্ধে আর্থিক সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ পান। নিজের জমিতে চাষ করা কৃষকের পাশাপাশি লিজ বা ঠিকা জমিতে চাষ করা ভাগচাষিরাও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারেন। বর্তমানে এই প্রকল্পে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক।
প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনার অন্যতম বড় সুবিধা হলো এর স্বল্প প্রিমিয়াম। খরিফ শস্যের জন্য কৃষকদের মাত্র ২ শতাংশ, রবি শস্যের জন্য ১.৫ শতাংশ এবং বাণিজ্যিক ও উদ্যানপালন ফসলের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ প্রিমিয়াম দিতে হয়। বাকি অর্থ কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার ভর্তুকি হিসেবে বহন করে।
আবেদনের জন্য কৃষকেরা অনলাইনে সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে অথবা নিকটবর্তী ব্যাঙ্ক, সমবায় সমিতি, অনুমোদিত বীমা সংস্থা, সাধারণ পরিষেবা কেন্দ্র (CSC) কিংবা কৃষি দপ্তরের সাহায্যে আবেদন করতে পারেন। আবেদন করার সময় আধার কার্ড, ব্যাঙ্ক পাসবই, জমির নথি এবং চাষ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হয়।
ফসল রোপণ থেকে ফসল কাটার পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতি হলে এই প্রকল্পের অধীনে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়। ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটলে কৃষকদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হয়। বর্তমানে উপগ্রহ চিত্র, ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা হচ্ছে, যাতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা দ্রুত এবং স্বচ্ছ পদ্ধতিতে ক্ষতিপূরণ পান।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাড়তে থাকা আবহাওয়াজনিত ঝুঁকির সময়ে প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা কৃষকদের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই চাষের মরশুম শুরুর আগেই কৃষকদের এই বীমা সম্পর্কে সচেতন হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী নিবন্ধন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

