AB Live News
আজ ২৮ মে, বড় ম্যাচের শতবর্ষের মহাজাগরণ ও লাল-হলুদের প্রথম জয়
আজকের দিনটি অর্থাৎ ২৮ মে, ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সবচেয়ে গৌরবময় এবং আবেগময় দিন। ঠিক ১০১ বছর আগে, ১৯২৫ সালের আজকের দিনেই কলকাতা ফুটবল লিগে (সিএফএল) প্রথম মুখোমুখি হয়েছিল কলকাতার দুই প্রধান চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি— ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগান। ভারতীয় ক্রীড়াজগতের মহত্তম দ্বৈরথ ‘কলকাতা ডার্বি’-র অফিশিয়াল জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল এই ঐতিহাসিক ম্যাচটির মাধ্যমেই।
স্টেটসম্যানের আর্কাইভে প্রথম ডার্বির রোমাঞ্চ
১৯২৫ সালের ২৮ মে ক্যালকাটা গ্রাউন্ডে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। তৎকালীন কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশার পারদ ছিল তুঙ্গে। প্রথম ডিভিশনে নবাগত ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সামনে ছিল তৎকালীন ফুটবলের মহাশক্তিধর ও দীর্ঘদিনের ফেভারিট মোহনবাগান। ‘দ্য স্টেটসম্যান’ (The Statesman) পত্রিকার তৎকালীন আর্কাইভ রিপোর্ট অনুযায়ী, সেই ম্যাচে মোহনবাগানকে ফেভারিট ধরা হলেও মাঠের লড়াইয়ে এক চুলও জমি ছাড়েনি নবাগত লাল-হলুদ ব্রিগেড। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সেই ম্যাচে মোহনবাগানকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথম ঐতিহাসিক ডার্বি জয়ের স্বাদ মেখেছিল ইস্টবেঙ্গল ক্লাব।
ঐতিহাসিক ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (২৮ মে, ১৯২৫):
ফলাফল:
ইস্টবেঙ্গল ক্লাব ১ -০ মোহনবাগান ক্লাব
গোলদাতা: নেপাল চক্রবর্তী
রেফারি: সি. আর. ক্লেটন
ম্যাচের সেই রোমাঞ্চকর মুহূর্ত
ম্যাচের একমাত্র এবং জয়সূচক গোলটি করেছিলেন ইস্টবেঙ্গলের কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড নেপাল চক্রবর্তী। তৎকালীন সংবাদপত্রের বিবরণী অনুযায়ী, প্রথমার্ধের খেলা ছিল অত্যন্ত গতিশীল। মোহনবাগান আক্রমণভাগে ঝড় তুললেও ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণভাগ এবং বিশেষ করে গোলরক্ষক পি. দাস অসামান্য কিছু সেভ করে দলের দুর্গ অক্ষত রাখেন।
এরপর এক ঝোড়ো কাউন্টার অ্যাটাক থেকে নেপাল চক্রবর্তীর দুর্দান্ত এক মাটিঘেঁষা জোরালো শট মোহনবাগানের গোলপোস্টে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। মোহনবাগানের গোলরক্ষক ভাদুড়ী মাটিতে ঝাঁপিয়েও সেই শট রুখতে পারেননি। এই একটিমাত্র গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় এবং নবাগত দল হিসেবে ইস্টবেঙ্গল প্রথম ম্যাচেই ইতিহাস রচনা করে।
দৈনিকের খতিয়ান বলছে, সেদিনের মাঠে উপস্থিত দর্শকদের উল্লাস ছিল বাঁধভাঙা। মোহনবাগান দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে একের পর এক আক্রমণ শানিয়েছিল। কুমার দুর্দান্ত দুটি শট নিলেও তা গোলপোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। মোহনবাগানের তারকা খেলোয়াড় আর. দাস এবং পাল চমৎকার ফুটবল খেললেও শেষরক্ষা হয়নি। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলের এস. চক্রবর্তী উইং দিয়ে দুর্দান্ত গতিতে বল স্লাইড করে মোহনবাগান রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে রেখেছিলেন।
শতবর্ষ পেরিয়ে আজও অম্লান সেই আবেগ
১৯২৫ সালের ২৮ মে ক্যালকাটা লিগের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচটি কেবল একটি খেলার জয়-পরাজয় ছিলনা, তা ছিল একটি মহাকাব্যিক ফুটবল সংস্কৃতির ভিত্তিপ্রস্তর। গত এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ঘটি-বাঙালের লড়াই, ইলিশ-চিংড়ির যুদ্ধ আর লাল-হলুদ বনাম সবুজ-মেরুনের এই চিরন্তন দ্বৈরথ বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ ২৮ মে, সেই মহান ঐতিহাসিক যাত্রার স্মারক দিন, যা প্রতি বছর মনে করিয়ে দেয় কীভাবে ফুটবলকে কেন্দ্র করে একটি জাতির আবেগ ও ঐতিহ্য গড়ে উঠেছিল।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

