Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

পাঞ্জাবের জয়ে বাড়ল কেকেআরের চাপ

0 639,864,443

 লখনউ সুপার জায়ান্টস ১৯৬/৬ (২০ ওভার)

পাঞ্জাব কিংস ২০০/৩ (১৮ ওভার)

 ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের চলতি মরশুমের প্লে-অফের লড়াই এক চরম নাটকীয় মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। টানা ছয়টি ম্যাচে লজ্জাজনক হারের পর, যখন সবাই ধরে নিয়েছিল যে পাঞ্জাব কিংসের সফর এবার শেষ হতে চলেছে, ঠিক তখনই এক অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ঘটাল তারা। শনিবার লখনউয়ের ঘরের মাঠে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে প্লে-অফের দৌড়ে নিজেদের টিকিয়ে রাখল পাঞ্জাব। আর পাঞ্জাবের এই নাটকীয় ও দাপুটে জয়ের ফলেই এক ধাক্কায় প্রবল চাপ বেড়ে গেল কলকাতা নাইট রাইডার্সের ওপর। এই মুহূর্তের পয়েন্ট তালিকার সমীকরণ অনুযায়ী, ১৪টি ম্যাচ খেলে পাঞ্জাবের সংগ্রহ হল ১৫ পয়েন্ট। একই সাথে তাদের নেট রানরেট দাঁড়িয়েছে ০.৩১-এ। পাঞ্জাবের এই জয়ের ফলে রবিবার অজিল্ক রাহানেদের সামনে অঙ্কটা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াল। রবিবার দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র জয় পেলেই শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত হবে না কেকেআরের। তাদের জিততে হবে বিশাল ব্যবধানে, যাতে নেট রানরেটের বিচারে তারা পাঞ্জাব কিংসকে অনায়াসে টপকে যেতে পারে। সামান্যতম ভুলচুক হলেই কেকেআরের বিদায়ঘণ্টা বেজে যেতে পারে।

এ দিন লখনউয়ের মাঠে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বড়সড় ধাক্কা খায় লখনউ সুপার জায়ান্টস। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই কোনও রান না করে আর্শিন কুলকার্নি প্যাভিলিয়নে ফেরত যান। লখনউয়ের সমর্থক ও টিম ম্যানেজমেন্টকে স্তম্ভিত করে দিয়ে পরের ওভারেই মাত্র ২ রান করে আউট হন নির্ভরযোগ্য ব্যাটার নিকোলাস পুরান। ফলে মাত্র ২০ রানের মাথায় ২ উইকেট হারিয়ে রীতিমতো ধুঁকছিল লখনউ। ঠিক সেই সময় দলের হাল ধরেন জস ইংলিস ও আয়ুষ বাদোনি। তৃতীয় উইকেটের জুটিতে তাঁরা দু’জনে মাত্র ২৩ বলে দ্রুত গতিতে ৪৯ রান যোগ করে দলকে প্রাথমিক বিপর্যয় থেকে টেনে তোলেন। অত্যন্ত মারকুটে মেজাজে ব্যাট করতে থাকা বাদোনি মাত্র ১৮ বলে ৪৩ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। কিন্তু তাঁর এই বিপজ্জনক ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে যুজবেন্দ্র চাহালের বলে। চাহালের ঘূর্ণি বুঝতে না পেরে উইকেটকিপারের হাতে স্টাম্পড হন তিনি।

বাদোনি আউট হওয়ার পর ক্রিজে আসেন তারকা উইকেটকিপার ব্যাটার ঋষভ পন্থ। তবে এ দিন তিনি দলকে বড় স্কোরের দিকে নিয়ে যেতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন। ২২ বলে মাত্র ২৬ রান করে তিনি যখন আউট হন, তখন লখনউয়ের বড় স্কোর গড়ার স্বপ্ন অনেকটাই ফিকে হতে শুরু করেছে। তবে অন্য প্রান্ত আগলে রেখে দুর্দান্ত ব্যাটিং করছিলেন জস ইংলিস। লখনউয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৪ বলে ৭৪ রানের একটি অনবদ্য ইনিংস খেলেন তিনি। ইংলিস আউট হওয়ার পর শেষ দিকে লখনউয়ের স্কোরকে দুশো রানের কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়ার মূল দায়িত্ব নেন আব্দুল সামাদ। ২০ বলে ৩৭ রান করে তিনি অপরাজিত থেকে যান। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রানের একটি লড়াকু ও চ্যালেঞ্জিং স্কোর খাড়া করে লখনউ সুপার জায়ান্টস।

জিততে হলে ১৯৭ রান করতে হবে— এই কঠিন লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে পাঞ্জাব কিংসের শুরুটাও মোটেও আশাব্যঞ্জক ছিল না। লখনউয়ের তারকা বোলার মহম্মদ শামির বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে শুরুতেই উইকেট হারায় পাঞ্জাব। খাতা খোলার আগেই শামির বলে শূন্য রানে বোল্ড হন প্রিয়াংশ আর্য। শুরুর এই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই কুপার কনোলিকে ১৮ রানে সাজঘরে ফিরিয়ে পাঞ্জাব শিবিরে দ্বিতীয় আঘাতটি হানেন সেই শামিই। দ্রুত ২ উইকেট হারিয়ে যখন পাঞ্জাব চরম চাপে, ঠিক তখনই মাঠে রূপ নেয় এক ঐতিহাসিক পার্টনারশিপ। তৃতীয় উইকেটে জুটি বেঁধে লখনউয়ের বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালাতে শুরু করেন অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার এবং ওপেনার প্রভসিমরন সিং। তাঁরা দু’জনে মাত্র ৭৬ বলে ১৪০ রানের এক অবিশ্বাস্য পার্টনারশিপ গড়ে পাঞ্জাবের জয়ের ভিত মজবুত করে দেন।

প্রভসিমরন ৩৯ বলে ৩টি চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে ৬৯ রানের একটি অনবদ্য ও কার্যকরী ইনিংস খেলে যখন আউট হন, ততক্ষণে ম্যাচের রাশ সম্পূর্ণভাবে পাঞ্জাবের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। বাকি কাজটুকু ঠান্ডা মাথায় সম্পন্ন করেন অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। লখনউয়ের মাঠ জুড়ে এ দিন শুধুই দেখা গিয়েছে শ্রেয়সের রাজকীয় ব্যাটিং। মাত্র ৫১ বলে অপরাজিত ১০১ রানের একটি চোখধাঁধানো ও বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। নিজের এই ইনিংসটি খেলার পথে তিনি যেমন বাউন্ডারি মেরেছেন, তেমনই মাঠের চারদিকে ছক্কার বন্যা বইয়ে দিয়েছেন। আইপিএলের ইতিহাসে এটিই শ্রেয়স আইয়ারের প্রথম শতরান। অধিনায়কোচিত এই ইনিংসের সুবাদে ম্যাচ সেরার পুরস্কারও পান তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৮ ওভারেই মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ২০০ রান তুলে নেয় পাঞ্জাব কিংস। এই জয়ের ফলে ১২ বল বাকি থাকতেই ৭ উইকেটে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে পাঞ্জাব। পাঞ্জাবের এই জয়ের পর আইপিএলের প্লে-অফের অঙ্ক এতটাই জটিল হয়ে গেল যে, রবিবারের কেকেআর বনাম দিল্লি ম্যাচের দিকে এখন চাতক পাখির মতো তাকিয়ে রয়েছে আপামর ক্রিকেট মহল। কোনও সন্দেহ নেই যে, রবিবারের ইডেন গার্ডেন্সে এক হাই-ভোল্টেজ মহাযুদ্ধ দেখতে চলেছেন ক্রীড়ামোদীরা।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper