AB Live News
ট্রলি ব্যাগে হাত-পা মোড়া দেহ, চাঞ্চল্য হাওড়ায়
মধ্যমগ্রামের হাড়হিম করা ট্রলি-কাণ্ডের ছায়া এবার হাওড়ার উলুবেড়িয়ায়। ভররবিবারে এক অজ্ঞাতপরিচয় মধ্যবয়স্ক ব্যক্তির হাত-পা মোড়া ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল গোটা এলাকায়। একটি পরিত্যক্ত ট্রলি ব্যাগের ভেতর থেকে যেভাবে ওই ব্যক্তির দেহ উদ্ধার হয়েছে, তা দেখে রীতিমতো স্তব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। সাতসকালে এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটেছে উলুবেড়িয়ার নোনা এলাকায়। ঘটনার খবর চাউর হতেই শয়ে শয়ে মানুষ ভিড় জমান ঘটনাস্থলে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং ঘটনার কিনারা করতে তড়িঘড়ি ময়দানে নামে পুলিশ প্রশাসন। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং গোটা এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে নোনা এলাকার একটি নামী মিষ্টির দোকানের পিছনের ঝোপঝাড়ে একটি বড় সাইজের ট্রলি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন কয়েকজন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দা। সাধারণত ওই জায়গায় কোনও ট্রলি ব্যাগ পড়ে থাকার কথা নয়। তার ওপর ব্যাগটির চেইন সামান্য খোলা ছিল এবং সেখান থেকে এক ধরনের চড়া দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করেছিল। সন্দেহ দানা বাঁধায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে ব্যাগটির কাছে যান। কিন্তু ব্যাগটির অস্বাভাবিক ভারী ভাব এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখে তাঁরা আর নিজে থেকে সেটি খোলার সাহস পাননি। এরপরই কালবিলম্ব না করে খবর দেওয়া হয় উলুবেড়িয়া থানায়। খবর পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন পদস্থ আধিকারিকরা।
পুলিশ এসে পৌঁছনোর পর স্থানীয়দের উপস্থিতিতেই সাবধানে ওই পরিত্যক্ত ট্রলি ব্যাগের চেইন খোলা হয়। ব্যাগটি খুলতেই উপস্থিত সকলের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। দেখা যায়, ব্যাগের ভেতরে অত্যন্ত নির্মমভাবে হাত এবং পা মুড়ে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছে এক মধ্যবয়স্ক ব্যক্তির নিথর দেহ। মৃতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের। দেহটি উদ্ধারের সময় আশপাশে কোনও পরিচয়পত্র বা এমন কোনও সূত্র মেলেনি, যা থেকে ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হত। স্থানীয় বাসিন্দাদের ডেকে দেহটি সনাক্ত করার চেষ্টা করা হলেও, এলাকার কেউ ওই ব্যক্তিকে চিনতে পারেননি। ফলে পুলিশের অনুমান, অন্য কোথাও খুন করে তথ্যপ্রমাণ লোপাট করার উদ্দেশ্যে এবং পুলিশের চোখে ধুলো দিতেই এই নির্জন ঝোপের ভেতর দেহটি এনে ফেলে যাওয়া হয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সমস্ত আলামত সংগ্রহের পর মৃতদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল করে। এরপর দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য উলুবেড়িয়া শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ এবং ঠিক কতক্ষণ আগে ওই ব্যক্তিকে খুন করা হয়েছে, সেই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা নোনা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভরদুপুরে বা রাতের অন্ধকারে কীভাবে এত বড় একটি ট্রলি ব্যাগ মিষ্টির দোকানের পিছনে ফেলে যাওয়া হল, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ইতিমধ্যেই ওই মিষ্টির দোকান এবং সংলগ্ন জাতীয় সড়ক ও আশেপাশের সমস্ত সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরা ফুটেজ খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছে। শনিবার রাত থেকে রবিবার ভোরের মধ্যে ওই এলাকায় কোন কোন গাড়ি যাতায়াত করেছে, সন্দেহভাজন কাউকে ভারী ব্যাগ হাতে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গিয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। জেলার সীমানা এলাকা এবং সংলগ্ন থানাগুলিকেও সতর্ক করা হয়েছে। নিখোঁজ ডায়েরিগুলির তালিকা মিলিয়ে দেখার কাজও চলছে জোরকদমে। পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। মৃত ব্যক্তির পরিচয় উদ্ধার করাই এখন তদন্তকারীদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

