AB Live News
চন্দ্রনাথকে খুন করিয়েছে অভিষেক: অর্জুন সিং
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় এবার সরাসরি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে অভিযোগের আঙুল তুললেন ব্যারাকপুরের দাপুটে নেতা তথা নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং। রবিবার এই চাঞ্চল্যকর দাবি করে অর্জুন সিং সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন যে, চন্দ্রনাথ রথকে খুন করিয়েছেন স্বয়ং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে এবং এর নেপথ্যে কাজ করেছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও হতাশা। অর্জুনের দাবি, এই খুনের ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে কোনও দিন গ্রেফতার হতে পারেন এবং আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে এই ‘মহাজঙ্গলরাজ’ শেষ হবেই। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বালি-পাথর-সিমেন্ট সিন্ডিকেটের কোটি কোটি টাকা হাতছাড়া হওয়ার আতঙ্কে এবং চারদিকে জমি হারানোর আশঙ্কায় বর্তমানে শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্ব দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে ভাবে বাংলায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাতে অভিষেকের গ্রেফতারি এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছেন তিনি। অর্জুন সিংয়ের কথায়, ২০০০ পুলিশ যখন হাতের বাইরে চলে যাবে এবং আসল সত্যি সামনে আসবে, তখন তৃণমূলের বড় বড় মাথাদের পাগলের মতো দশা হবে। চোর এবং খুনিদের জন্য জায়গা হবে সংশোধনাগার।
অর্জুন সিংয়ের এই বিস্ফোরণের মাঝেই নতুন করে ঘি ঢেলেছে মৃত চন্দ্রনাথ রথের মায়ের আর্তনাদ। ছেলের নিথর দেহের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় শাসকদলের দিকেই আঙুল তুলেছিলেন। তাঁর মা দাবি করেছেন, খুনের আগে বারবার ‘গরম গরম’ বক্তৃতা দিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছিল যে ৪ তারিখের পর দিল্লির বাবাও রক্ষা করতে পারবে না। চন্দ্রনাথের মা সরাসরি বলেন, “আমার ছেলের জীবন বলি দিতে হল। ও ভবানীপুর, চণ্ডীপুর, নন্দীগ্রাম সহ একাধিক বিধানসভার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকলেও কখনও প্রকাশ্যে আসত না। পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করত বলে কারও ক্ষতি করেনি।” উল্লেখ্য, প্রচারের ময়দানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা গিয়েছিল যে, ৪ তারিখের পর দিল্লির বাবা রক্ষা করতে পারবে না এবং শান্তি বজায় রেখেও রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে এবার ডিজে বাজবে। অর্জুন সিংয়ের দাবি, এই হুমকির আড়ালেই লুকিয়ে ছিল চন্দ্রনাথকে সরিয়ে দেওয়ার ব্লু-প্রিন্ট। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই চরম হুঁশিয়ারির কয়েক দিনের মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে যাওয়ায় গোটা ঘটনার দায় তাঁর ওপরেই চাপাচ্ছে বিজেপি শিবির। যদিও অর্জুন সিংয়ের এই বিস্ফোরক দাবির প্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পালটা অভিযোগ করা হয়েছে যে, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত ও ভিত্তিহীন ভাবে এই অভিযোগ আনা হচ্ছে। শাসকদলের মুখপাত্রদের দাবি, তদন্ত চলার আগেই এইভাবে সরাসরি কারও নাম নেওয়া আইনত অপরাধ। তবে অর্জুন সিং তাঁর অবস্থানে অনড়। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই মহাজঙ্গলরাজ বেশিদিন চলবে না এবং চন্দ্রনাথ খুনের বিচার মানুষ রাস্তাতেই বুঝে নেবে। সব মিলিয়ে চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের রেশ এখন গিয়ে পৌঁছল দক্ষিণ কলকাতার হাইভোল্টেজ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন পুলিশের তদন্তের দিকে, কারণ অর্জুন সিংয়ের এই অভিযোগের পর পরিস্থিতির আঁচ আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। একদিকে কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাপ আর অন্যদিকে খুনের সরাসরি অভিযোগ— সব মিলিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। সংবাদমাধ্যমের সামনে অর্জুন বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রী বাংলার মানুষকে কথা দিয়েছেন এই দুর্নীতি ও অরাজকতা দূর করার, এবং চন্দ্রনাথের রক্ত বৃথা যাবে না। বাংলার এই রণক্লান্ত রাজনীতির আঙিনায় অর্জুন সিংয়ের এই শব্দবাণ তৃণমূলের অন্দরমহলে বড়সড় ফাটল ধরাতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। খুনের ষড়যন্ত্র থেকে শুরু করে সিন্ডিকেট রাজের আর্থিক হিসেব নিকেশ— সব মিলিয়ে অর্জুন সিংয়ের এই দীর্ঘ বয়ান রাজ্যের বর্তমান শাসনব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারাটাকেই জনসমক্ষে টেনে এনেছে বলে দাবি করেছে বিজেপি। এর উত্তরে তৃণমূল এখন কোন পথে আক্রমণ চালায়, সেটাই দেখার।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

