AB Live News
পঞ্জাব বধ টাইটান্সের, জয়ে হ্যাটট্রিক শুভমনদের
পাঞ্জাব কিংস ১৬৩-৯ (২০ ওভার)
গুজরাট টাইটান্স ১৬৭-৬ (১৯.৫ ওভার)
ঘরের মাঠে আরও এক রুদ্ধশ্বাস জয়ের সাক্ষী থাকল আমেদাবাদ। ১৬৪ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে এক সময় ম্যাচ কঠিন হয়ে পড়লেও স্নায়ুর লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসল শুভমন গিলের গুজরাট টাইটান্স। পঞ্জাব কিংসকে ৪ উইকেটে হারিয়ে আইপিএলের পয়েন্ট তালিকায় প্রথম পাঁচের মধ্যে নিজেদের জায়গা আরও মজবুত করল তারা। একইসঙ্গে চলতি মরশুমে জয়ের হ্যাটট্রিকও সেরে ফেলল গুজরাট। অন্যদিকে, প্রথম সাতটি ম্যাচে অপরাজিত থেকে লিগের শীর্ষে থাকা পঞ্জাব কিংসকে টানা দ্বিতীয় হারের মুখ দেখতে হল। গুজরাটের জয়ের নায়ক সাই সুদর্শনের অনবদ্য অর্ধশতরান এবং শেষ লগ্নে ওয়াশিংটন সুন্দরের অদম্য মেজাজ। বল হাতে পঞ্জাবকে কোণঠাসা করতে মুখ্য ভূমিকা নিলেন ক্যারিবিয়ান তারকা জেসন হোল্ডার।
এদিন টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পঞ্জাব অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত কার্যত বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায় ইনিংসের প্রথম ওভারেই। মহম্মদ সিরাজের আগুন ঝরানো স্পেলে শুরুতেই কেঁপে যায় পঞ্জাবের টপ অর্ডার। মাত্র ২ রান করে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার প্রিয়াংশ আর্য, আর খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন কুপার কনোলি। ব্যাটিং বিপর্যয়ের এখানেই শেষ নয়, ব্যর্থতার মিছিলে যোগ দেন প্রভসিমরন সিং ও খোদ অধিনায়ক শ্রেয়সও। মাত্র ৪৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে যখন পঞ্জাব পুরোপুরি খাদের কিনারায়, তখন দলের হাল ধরেন মুম্বইয়ের তরুণ সূর্যংশ শেজে ও অভিজ্ঞ অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডার মার্কাস স্টয়নিস। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে এই জুটি দলের স্কোরবোর্ডে মূল্যবান ৭৯ রান যোগ করে। বিশেষ করে সূর্যংশের ব্যাট ছিল রীতিমতো অগ্নিগর্ভ। মাত্র ২৯ বলে ৫৭ রানের ইনিংস খেলে তিনি পঞ্জাবকে লড়াইয়ের রসদ জোগান। স্টয়নিস ৩১ বলে ৪০ রানের ধৈর্যশীল ইনিংস খেলেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৬৩ রান তোলে পঞ্জাব। গুজরাটের হয়ে জেসন হোল্ডার ২৪ রান দিয়ে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন।
১৬৪ রানের জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় গুজরাট। দলের প্রাণভোমরা তথা অধিনায়ক শুভমন গিল ব্যক্তিগত ৫ রানেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন। তবে সেই ধাক্কা কাটিয়ে দলকে জয়ের পথে ফেরান সাই সুদর্শন ও জস বাটলার। সুদর্শন ৪১ বলে ৫৭ রানের একটি ইনিংস খেলে ইনিংসের ভিত তৈরি করে দেন। বাটলার খেলেন ২২ বলে ২৬ রানের একটি ছোট্ট অথচ কার্যকরী ইনিংস। কিন্তু মাঝের ওভারে পঞ্জাবের বোলাররা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। অর্শদীপ সিং, মার্কাস স্টয়নিস ও মার্কো জানসেনের দুরন্ত বোলিং বিক্রম ম্যাচের ভাগ্য পেন্ডুলামের মতো দোলাতে থাকে। এক সময় ম্যাচ গুজরাটের হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল।
শেষ ওভারে গুজরাটের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১ রান। পঞ্জাবের হয়ে বল করতে আসেন মার্কাস স্টয়নিস। ক্রিজে ছিলেন সেট ব্যাটার ওয়াশিংটন সুন্দর। উত্তেজনায় ফুটছিল গ্যালারি। স্টয়নিসের চতুর্থ বল পর্যন্ত রান তোলার কাজ কঠিন হলেও পঞ্চম বলটি ছিল ইয়র্কার দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা। সেই সুযোগ হাতছাড়া করেননি সুন্দর। অভিজ্ঞতার ছাপ রেখে স্কুপ শটে ডিপ স্কোয়ার লেগের ওপর দিয়ে বল গ্যালারিতে পাঠিয়ে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ২৩ বলে ৪০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে গুজরাটকে প্লে-অফের দৌড়ে বড় অক্সিজেন দিলেন সুন্দর। এই জয়ে যেমন স্বস্তি ফিরল গুজরাট শিবিরে, তেমনই টানা দুই ম্যাচ হেরে শীর্ষস্থান ধরে রাখার লড়াইয়ে চাপে পড়ে গেল পঞ্জাব কিংস।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

