Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

সরকার গঠনে নির্ণায়ক হবে কংগ্রেসই

0 59,217,918

 রাহুল গান্ধীর বঙ্গ সফরের প্রাক্কালে রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় চমক দিল জাতীয় কংগ্রেস। বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই এবার নিজেদের ‘কিং মেকার’ হিসেবে দাবি করল শতাব্দীপ্রাচীন এই দল। মঙ্গলবার কলকাতায় এক হাই-প্রোফাইল সাংবাদিক বৈঠকে দলের রাজ্যসভার দুই হেভিওয়েট সাংসদ প্রমোদ তিওয়ারি এবং অখিলেশ প্রসাদ সিং দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিলেন, এবারের নির্বাচনে কংগ্রেস ছাড়া বাংলায় সরকার গঠন সম্ভব নয়। দীর্ঘ দুই দশক পর কোনও জোটের ছায়া ছাড়াই একা লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস, আর সেই প্রেক্ষাপটেই তৃণমূল এবং বিজেপি—উভয় শিবিরকেই কড়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন তাঁরা।

বাংলার মাটি যে বরাবরই প্রগতিশীল এবং বিপ্লবী চিন্তাধারার পীঠস্থান, সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রমোদ তিওয়ারি বলেন, এ রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাস অনেক গভীরে। কিন্তু বর্তমান শাসনামলে সেই গরিমা ম্লান হচ্ছে। প্রমোদ তিওয়ারির নিশানায় ছিল মূলত কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং রাজ্যের বর্তমান শাসক দল। একদিকে যেমন তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি তোপ দেগে দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন, তেমনই অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তুলেছেন সিন্ডিকেট রাজ ও দুর্নীতির অভিযোগে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, সরাসরি কেন্দ্রের শাসনাধীন এলাকায় যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা যায়, তবে সেই ব্যর্থতার দায় কেন্দ্র এড়াতে পারে না। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের আমলে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক হিংসা এক ভয়াবহ স্তরে পৌঁছেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সাংসদ অখিলেশ প্রসাদ সিংয়ের গলাতেও ছিল একই সুর। তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং শিল্পের মতো মৌলিক ক্ষেত্রগুলিতে পশ্চিমবঙ্গ বর্তমানে দেশের মানচিত্রে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। মানুষের রুজি-রুটির প্রশ্নে রাজ্য সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ। অখিলেশ জোর দিয়ে বলেন, মানুষ এবার বিকল্প খুঁজছে এবং সেই বিকল্পই হল কংগ্রেস। রাজ্যে বর্তমানে দুই মেরুর লড়াইয়ের কথা বলা হলেও, কংগ্রেস নিঃশব্দে তৃতীয় শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে এবং ভোটের ফল প্রকাশের পর দেখা যাবে তাদের সমর্থন ছাড়া কেউ ক্ষমতায় বসতে পারছে না। উভয় নেতাই একযোগে অভিযোগ করেন যে, বিজেপি এবং তৃণমূল—উভয় দলই আসলে বিভাজনের রাজনীতি করছে এবং মানুষের আসল সমস্যা থেকে নজর ঘোরাতে সাম্প্রদায়িক সুরসুরি দিচ্ছে। ২০ বছর পর একক শক্তিতে লড়ার এই ঝুঁকি কংগ্রেসকে হারানো জমি পুনরুদ্ধারে সাহায্য করবে বলেই শীর্ষ নেতৃত্বের বিশ্বাস। রাহুলের সভার আগেই কংগ্রেসের এই ‘নির্ণায়ক’ হওয়ার দাবি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার, এই আত্মবিশ্বাস ব্যালট বক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper