Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

গঙ্গাবক্ষে মোদী, তিলোত্তমার ভোরে আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক মেলবন্ধন

0 16,789,423

 ভোটের উত্তপ্ত আবহে মহানগরীর ব্যস্ততা শুরু হওয়ার আগেই এক অনন্য দৃশ্যের সাক্ষী থাকল গঙ্গার দুই পাড়। শুক্রবার ভোরে নীল আকাশের নিচে রুপোলি গঙ্গাবক্ষে নৌকাবিহারে বেরোলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রচারের ঝোড়ো ইনিংসের মাঝেই কিছুটা সময় গঙ্গার শান্ত সান্নিধ্যে কাটালেন তিনি। হাতে ক্যামেরা, চোখে রোদচশমা আর পরনে তাঁর সেই চিরাচরিত কুর্তা-পাঞ্জাবি; প্রধানমন্ত্রীর এই নতুন অবতারের ছবি ও ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। হুগলি নদীর ঢেউয়ের ওপর দিয়ে নৌকা যখন হাওড়া ব্রিজ আর বিদ্যাসাগর সেতুর নিচে দিয়ে এগোচ্ছিল, তখন প্রধানমন্ত্রীকে দেখা গেল কখনও প্রকৃতির ছবি তুলতে, আবার কখনও দু’হাত জোর করে মা গঙ্গাকে প্রণাম জানাতে। পরে সমাজমাধ্যমে এই সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি আবেগঘন ভাষায় লিখেছেন, “প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে গঙ্গা এক বিশেষ স্থান অধিকার করে রয়েছে। এটা বললে অত্যুক্তি হবে না যে, গঙ্গা আসলে বাংলার আত্মা দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।”

বৃহস্পতিবার রাতেই রাজ্যে পা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। মথুরাপুর ও কৃষ্ণনগরের জনসভা সেরে হাওড়ায় এক বর্ণাঢ্য রোড শো করার পর তিনি রাত্রিবাস করেছিলেন রাজভবনে, যার নাম এখন পরিবর্তিত হয়ে হয়েছে লোকভবন। শুক্রবার সকালের এই নৌকাবিহার কেবল পর্যটন নয়, বরং প্রধানমন্ত্রীর কথায় তা ছিল মা গঙ্গার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো। গঙ্গার শীতল হাওয়ায় ডেক-এ বসে প্রধানমন্ত্রী যখন ভাবগম্ভীর হয়ে নদীর দিকে তাকিয়ে ছিলেন, তখন তীরের প্রাতর্ভ্রমণকারীদের ভিড় হাত নেড়ে তাঁকে অভিবাদন জানায়। প্রধানমন্ত্রীও স্মিতহাস্যে তাঁদের প্রত্যুত্তর দেন। এই সফরে তিনি সাধারণ নৌকার সওয়ারি ও প্রাতর্ভ্রমণকারীদের সঙ্গেও সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতা করেন। নৌকাবিহার শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁর রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “উন্নত পশ্চিমবঙ্গ এবং বাঙালির সর্বাঙ্গীণ উন্নতির জন্য আমাদের যে অঙ্গীকার, হুগলির বুকে দাঁড়িয়ে আমি পুনরায় সেই প্রতিজ্ঞার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি।”

উল্লেখ্য, এর আগেও প্রধানমন্ত্রী বহুবার কলকাতায় এসে তাঁর আধ্যাত্মিক অনুরাগের পরিচয় দিয়েছেন। গতকাল সভা ও রোড শোর ফাঁকেই তিনি ছুটে গিয়েছিলেন রামকৃষ্ণ মিশনের সদর দফতর বেলুড় মঠে। সেখানে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে আধ্যাত্মিক শক্তি সঞ্চয় করেন তিনি। শুক্রবার উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে তাঁর বড় জনসভা রয়েছে। সেই রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দানে নামার ঠিক আগেই গঙ্গার বুকে এই প্রাতঃকালীন প্রশান্তি তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। আকাশ থেকে গঙ্গাবক্ষের সৌন্দর্য ক্যামেরা বন্দি করার পাশাপাশি বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে গঙ্গার অচ্ছেদ্য বন্ধনকেও তিনি তাঁর লেখনীতে স্বীকৃতি দিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই গঙ্গাবন্দনা এবং বাঙালির ‘আত্মা’র উল্লেখ রাজ্যের ভোটমুখী জনমানসে কতখানি প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার। দিনের শেষে গঙ্গার জল ও তিলোত্তমার ইতিহাসকে পাথেয় করেই প্রধানমন্ত্রী রওনা দিলেন তাঁর পরের নির্বাচনী গন্তব্যে।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper