Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

যশপুরে বিমান দুর্ঘটনা, মৃত দুই 

0 589,321,840

 ছত্তিশগড়ের যশপুর জেলায় সোমবার এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল দেশ। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ঘন কুয়াশা না কি যান্ত্রিক গোলযোগ— ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও পরিণাম হয়েছে অত্যন্ত মর্মান্তিক। একটি গাছে সজোরে ধাক্কা মেরে মাঝ আকাশে অগ্নিপিণ্ডে পরিণত হওয়া একটি প্রাইভেট জেট ভেঙে পড়ল পাহাড়ের ঢালে। এই ঘটনায় বিমানের ভেতরে থাকা পাইলট ও কো-পাইলট উভয়েরই মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক সূত্রে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার জেরে তৈরি হওয়া আগুনের লেলিহান শিখা ও ধ্বংসাবশেষের আঘাতে জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন গ্রামবাসীও। গোটা এলাকা এখন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে রয়েছে এবং উদ্ধারকাজ জারি রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার যশপুর-নারায়ণপুর অঞ্চলের আকাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারায় ছোট বিমানটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিমানটি অত্যন্ত নিচ দিয়ে উড়ছিল এবং ইঞ্জিনের শব্দে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বিমানটি পাহাড়ের উপরে থাকা একটি বিশাল গাছে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কার অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যে জ্বালানি ট্যাঙ্কে বিস্ফোরণ ঘটে এবং বিমানে আগুন ধরে যায়। জ্বলন্ত অবস্থাতেই বিমানটি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচের দিকে আছড়ে পড়ে। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলি। পাহাড়ের খাঁজে বিমানটি আছড়ে পড়ার পর সেখানে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্কিত গ্রামবাসী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। তারাই প্রথম উদ্ধারকাজ শুরু করেন। খবর দেওয়া হয় নিকটবর্তী থানা ও জেলা সদর দপ্তরে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে এসএসপি লাল উমেদ সিং-সহ পুলিশের এক উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং দমকল কর্মীরা। তবে এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম এবং পাহাড়ি ঢাল হওয়ায় উদ্ধারকারী দল ও দমকলের ইঞ্জিন পৌঁছাতে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিমানটি যেখানে ভেঙে পড়েছে, সেখান থেকে লোকালয় খুব দূরে নয়। বিমানটি আছড়ে পড়ার সময় আগুনের ফুলকি ছিটকে এসে নিচে থাকা বেশ কয়েকজন এলাকাবাসীর গায়ে লাগে, যার ফলে তাঁরা দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিমানে ঠিক কতজন যাত্রী ছিলেন এবং তাঁরা ঠিক কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছিলেন, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট কোনো তথ্য মেলেনি। তবে পাইলট এবং কো-পাইলটের দেহ ইতিমধ্যেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাঁদের নাম ও পরিচয় জানার চেষ্টা চালাচ্ছে ছত্তিশগড় পুলিশ এবং অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, পাহাড়ের ঢালে দৃশ্যমানতা কম থাকায় পাইলট গাছের উচ্চতা বুঝতে পারেননি এবং এই সংঘর্ষ ঘটে। তবে যান্ত্রিক গোলযোগের সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করা সম্ভব হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সামনে আসবে।

ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই দুর্ঘটনার বেশ কিছু শিউরে ওঠা ভিডিও ও ছবি ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠছে এবং স্থানীয় মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছেন। বিকেলের দিকে আবহাওয়া কিছুটা খারাপ হওয়ায় এবং দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলে নবান্ন সূত্রের খবর। নিহতদের পরিবারকে খবর দেওয়ার কাজ চলছে। শোকাতুর যশপুর অঞ্চলে এখন শুধুই ধ্বংসাবশেষ আর আর্তনাদের শব্দ। কেন্দ্র ও রাজ্য— উভয় প্রশাসনের নজর এখন এই উদ্ধারকাজের গতিপ্রকৃতির ওপর। এই প্রাইভেট জেটটি কোনো কর্পোরেট সংস্থার না কি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ হতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper