Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

বাঁকুড়ায় কার্ড বিলি ঘিরে রণক্ষেত্র: বিজেপি কর্মীদের ‘হেনস্থা’, পাল্টা ‘আধার জালিয়াতি’র অভিযোগে সরব তৃণমূল

0 5,643,908,747

 বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার প্রতিটি কোণ এখন বারুদের স্তূপ। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বনাম মাতৃশক্তি ভরসা কার্ডের দ্বৈরথে এবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল বাঁকুড়ার সানবাঁধা এলাকা। শনিবার গ্রাম পঞ্চায়েতের চার্বাক পল্লীতে বিজেপির ‘মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড’ বিলিকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ ও বচসা বাঁধে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, উত্তপ্ত জনতাকে সামলাতে এলাকায় তড়িঘড়ি মোতায়েন করতে হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুধু সানবাঁধা নয়, গোটা বাঁকুড়া শহরের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত: চার্বাক পল্লীর ‘রণক্ষেত্র’

শনিবার সকালে চার্বাক পল্লী এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড’ বিলি করছিলেন স্থানীয় বিজেপি মহিলা মোর্চার কর্মীরা। বিজেপির দাবি, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবেই জনসংযোগ সারছিলেন। অভিযোগ, ঠিক সেই সময় সানবাঁধা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের নেতৃত্বে একদল তৃণমূল কর্মী-সমর্থক তাঁদের ঘিরে ধরেন। বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, প্রধান স্বয়ং তাঁদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং কার্ড বিলিতে বাধা দেন। মুহূর্তের মধ্যে এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। দু’পক্ষের বচসায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কেন্দ্রীয় বাহিনী, তবে ততক্ষণে রাজনৈতিক চাপানউতোর চরমে পৌঁছেছে।

তৃণমূলের পাল্টা তোপ: ‘আধার ও ব্যাঙ্ক নথি হাতিয়ে নেওয়ার ছক’

বিজেপির অভিযোগকে নস্যাৎ করে দিয়ে ময়দানে নেমেছে শাসক শিবির। স্থানীয় তৃণমূল নেতা সোমনাথ মণ্ডলের দাবি, বিজেপি কর্মীরা গ্রামের সহজ-সরল মহিলাদের ভুল বুঝিয়ে প্রতারণার জাল বিছিয়েছিল। তাঁর অভিযোগ:

“বিজেপির লোকেরা তিন হাজার টাকা দেওয়ার নাম করে মহিলাদের থেকে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের জেরক্স নিচ্ছিল। নির্বাচনের আগে এভাবে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত নথিপত্র এবং ব্যাঙ্কের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা গ্রামবাসী হিসেবে এই জালিয়াতির প্রতিবাদ করেছি মাত্র।”

তৃণমূলের দাবি, তাঁরা ইতিমধ্যেই বিষয়টি ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিককে (BDO) লিখিতভাবে জানিয়েছেন এবং এই ‘বেআইনি’ কার্ড বিলি বন্ধের দাবি তুলেছেন।

প্রতিবাদে জাতীয় সড়ক অবরোধ বিজেপির

তৃণমূলের এই বাধাদান এবং মহিলা কর্মীদের হেনস্থার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়ে পদ্ম শিবির। ঘটনার প্রতিবাদে বাঁকুড়া শহরের কেরানীবাঁধ এলাকায় ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। অবরোধের জেরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি। দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকে পড়ে বহু যানবাহন। বিজেপি নেতৃত্বের সাফ কথা, হার নিশ্চিত জেনে তৃণমূল ভয় পেয়ে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের প্রচারে বাধা দিচ্ছে। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপের আশ্বাস দিলে অবরোধ ওঠে।

প্রশাসনের ভূমিকা ও অনিশ্চয়তা

পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে আধার কার্ড বা ব্যাঙ্ক ডিটেইলস সংগ্রহের বিষয়ে কোনও আইনি তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও বার্তা পাওয়া যায়নি। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনও অভিযোগ জমা পড়েছে কি না, সেদিকেও নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল।

এক নজরে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু:

স্থান: সানবাঁধা গ্রাম পঞ্চায়েত, চার্বাক পল্লী, বাঁকুড়া।

বিজেপির দাবি: কার্ড বিলির সময় মহিলা কর্মীদের গালিগালাজ ও বাধা প্রদান।

তৃণমূলের দাবি: সাধারণ মানুষের আধার ও ব্যাঙ্ক নথি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা।

ফলশ্রুতি: জাতীয় সড়ক অবরোধ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর হস্তক্ষেপ।

নির্বাচনের আগে বাঁকুড়ার এই সংঘাত যে কেবল স্থানীয় স্তরে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে ‘নথি জালিয়াতি’ বনাম ‘রাজনৈতিক বাধা’র তকমা নিয়ে বড় আকার নেবে, তা বলাই বাহুল্য।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper