AB Live News
ফের রণক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্য
শান্তির ক্ষীণ আশাটুকুও অন্ধকারে বিলীন হয়ে গেল। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আমেরিকার সঙ্গে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠক সপাটে প্রত্যাখ্যান করল ইরান। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও ঘনিয়ে এল যুদ্ধের কালো মেঘ। দুই দেশের মধ্যে চলা পাক্ষিক সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ শেষ হতে না হতেই রণহুঙ্কার শুরু হয়েছে দুই শিবিরেই। সোমবার এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে তেহরানের তরফে আলোচনার টেবিল ত্যাগ করার ঘোষণা আসতেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, মধ্যপ্রাচ্য আপাতত বারুদের স্তূপেই দাঁড়িয়ে থাকছে। মঙ্গলবারই শেষ হচ্ছে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি, আর তার আগেই ওমান সাগরে ইরানি জাহাজ লক্ষ্য করে মার্কিন নৌসেনার গোলাবর্ষণ এবং তেহরানের পাল্টা জবাবে নতুন করে সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই বিধ্বংসী যুদ্ধে ইরান এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। দেড় মাস ধরে চলা সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম লিডারসহ প্রশাসনের একঝাঁক শীর্ষ নেতৃত্ব। যুদ্ধের ভয়াবহতা যখন চরমে, তখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের চাপে গত ৭ এপ্রিল দুই পক্ষই ১৪ দিনের জন্য অস্ত্র সংবরণে রাজি হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধান সূত্র খুঁজে বের করা। সেই লক্ষ্যেই গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রথম দফার বৈঠকে বসে দুই শক্তিধর রাষ্ট্র। টানা ২১ ঘণ্টা ধরে চলা সেই ম্যারাথন বৈঠক ছিল কার্যত নিস্ফলা। কোনো পক্ষই নমনীয় না হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামতে শুরু করে।
সেই অচলাবস্থা কাটাতে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানকে দ্বিতীয়বার আলোচনার টেবিলে আনতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত মুহূর্তে সেই প্রচেষ্টা ভেস্তে দিল ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, আমেরিকা একেক সময় একেক রকম দাবি পেশ করে গোটা প্রক্রিয়াকে প্রহসনে পরিণত করেছে। ইরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটনের দাবিগুলো কেবল অযৌক্তিকই নয়, বরং তা স্ববিরোধী। একদিকে শান্তির কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচলে কড়া অবরোধ জারি করে রাখা হয়েছে। এই দ্বিচারিতা ও অর্থনৈতিক অবরোধ বজায় রেখে কোনো ফলপ্রসূ আলোচনা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে ইরান।
এদিকে বৈঠক বাতিল হওয়ার খবর আসতেই ওমান সাগরে রণতরি মোতায়েন করেছে দুই দেশ। মার্কিন নৌসেনার হামলার পর পালটা সামরিক সক্রিয়তা বাড়িয়েছে ইরানও। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আলোচনার এই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় যুদ্ধ এবার আরও মারাত্মক রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা এই যুদ্ধের ফলে পুরোপুরি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। সব মিলিয়ে, কূটনৈতিক সৌজন্যের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দিয়ে ইরান জানিয়ে দিল— সমাধান নয়, সংঘাতই এখন ভবিতব্য। মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ফুরনোর আগেই গোলার শব্দে কাঁপতে শুরু করেছে মধ্যপ্রাচ্যের সীমান্তগুলো। লড়াইয়ের ময়দান থেকে ফিরে আসার সব পথ আপাতত রুদ্ধ।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

