AB Live News
মালদহে নক্ষত্রপতন: প্রয়াত আবু হাসেম খান চৌধুরী
মালদহের রাজনীতির এক দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটল। প্রয়াত হলেন কিংবদন্তি জননেতা এবিএ গনিখান চৌধুরীর ছোট ভাই তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আবু হাসেম খান চৌধুরী (ডালু)। বুধবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। বর্ষীয়ান এই নেতার প্রয়াণের খবর জেলায় পৌঁছাতেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে গনি পরিবারের গড় কোতোয়ালি-সহ গোটা মালদহে।
পরিবার সূত্রে খবর, বিগত দু’বছর ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। গত দুই মাস ধরে কলকাতায় তাঁর চিকিৎসা চলছিল। বুধবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে চিরনিদ্রার দেশে চলে যান মালদহ দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রের চারবারের এই প্রাক্তন সাংসদ। রাজনীতির অলিন্দে অত্যন্ত বিনয়ী ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ডালু বাবু গনিখানের জীবদ্দশায় কালিয়াচক কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৬ সালে দাদার প্রয়াণের পর উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে যান তিনি। এরপর ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত টানা মালদহ দক্ষিণ কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং ইউপিএ-২ সরকারের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন।
উত্তরাধিকার সূত্রে গনিখানের উন্নয়নের রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাণ্ডারি ছিলেন ডালু বাবু। ২০২৪-এর নির্বাচনে বার্ধক্যের কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়িয়ে নিজের আসনটি ছেলে ইশা খান চৌধুরীকে ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। কাকতালীয়ভাবে, ২০০৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই প্রয়াত হয়েছিলেন তাঁর দাদা গনিখান চৌধুরী। এবার ছাব্বিশের ভোটের আবহে নিভল গনি পরিবারের আর এক প্রদীপ। আবু হাসেম খান চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী-সহ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের শীর্ষ নেতৃত্ব। দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষও তাঁদের প্রিয় ‘ডালু দা’-র প্রয়াণে ম্রিয়মাণ। জানা গিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার দেহ মালদহে নিয়ে আসা হবে এবং কোতোয়ালির পারিবারিক কবরস্থানেই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

