AB Live News
বিএসএফের এক্তিয়ার বাড়ছে ৫০ কিমি পর্যন্ত
আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত টহল ও তল্লাশির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ)-কে আরও বেশি এলাকায় কাজ করার ক্ষমতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। প্রাথমিকভাবে পশ্চিমবঙ্গ, পঞ্জাব ও অসমে সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় বিএসএফের তল্লাশি, গ্রেফতার ও বাজেয়াপ্তির অধিকার বাড়ানো হয়েছে।
২০২১ সালের ১১ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা এক নোটিফিকেশনে এই পরিবর্তন আনা হয়। এর আগে এই তিন রাজ্যে বিএসএফের এক্তিয়ার ছিল মাত্র ১৫ কিলোমিটার। একই নোটিফিকেশনে গুজরাতে ৮০ কিলোমিটার থেকে কমিয়ে ৫০ কিলোমিটার করা হয়, আর রাজস্থানে আগের ৫০ কিলোমিটারই বহাল রাখা হয়। ফলে সব সীমান্তবর্তী রাজ্যে বিএসএফের কাজের পরিধি একই মানদণ্ডে আনা হয়েছে।
কেন্দ্রের যুক্তি, আধুনিক প্রযুক্তি যেমন ড্রোন, ইউএভি-র ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় চোরাচালান, মাদক পাচার, অস্ত্র সরবরাহ, গবাদি পশু চোরাচালান ও জাল নোটের র্যাকেট আরও গভীর এলাকায় সরে যাচ্ছে। ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় বিএসএফ অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীদের ধরতে পারছিল না। নতুন ব্যবস্থায় সীমান্তের ‘পয়েন্টস অব অরিজিন’-এ পৌঁছানো সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র বিতর্ক দেখা দেয়। পঞ্জাব ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার (তখন কংগ্রেস ও তৃণমূলের শাসন) এটিকে রাজ্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ ও ফেডারেল কাঠামোর উপর আঘাত বলে অভিযোগ তোলে। পঞ্জাব সরকার সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট এই নোটিফিকেশনের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য আইনি প্রশ্নগুলো নির্ধারণ করে। আদালত দেখছে, এটি স্বেচ্ছাচারী কিনা বা রাজ্যের আইনি এখতিয়ারে অনুপ্রবেশ কিনা।
বিএসএফ কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই বাড়তি এক্তিয়ার শুধু সিআরপিসি, পাসপোর্ট আইন ও পাসপোর্ট (ভারতে প্রবেশ) আইনের আওতায় প্রযোজ্য। এনডিপিএস, অস্ত্র আইন বা কাস্টমস আইনের মতো অন্য আইনে তাদের ক্ষমতা অপরিবর্তিত। গ্রেফতার করা ব্যক্তিদের রাজ্য পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়, তদন্তের দায়িত্ব বিএসএফের নয়। রাজ্য পুলিশের এক্তিয়ারও অটুট থাকছে—এটি সমান্তরাল (concurrent) ক্ষমতা মাত্র।
সীমান্ত নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ রোধে এই পদক্ষেপ যুক্তিযুক্ত। তবে কিছু রাজনৈতিক দল এখনও এটিকে কেন্দ্রীয়করণের চেষ্টা বলে সমালোচনা করে আসছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাম্প্রতিক সময়েও সীমান্ত বেড়া নির্মাণের জমি দেওয়ার আগে ৫০ কিমি নিয়ম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
কেন্দ্রের মতে, এই ইউনিফর্ম ৫০ কিলোমিটার নীতি জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং রাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ চলবে। বর্তমানে বিএসএফ এই বর্ধিত এলাকায় টহল, চেকপোস্ট ও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

